মহালয়ার রেশ কাটতেই রবীন্দ্র সদনে মহা আয়োজন! মঞ্চে ফিরছে চিরায়ত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ থেকে নস্ট্যালজিক পুজোর গান

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে শ্রেষ্ঠ উৎসব, আবেগ আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। সময়ের সঙ্গে পুজোর উদযাপনে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও, আগমনী, কীর্তন, টপ্পা কিংবা পুরনো দিনের পুজোর গানের আবেদন আজও অটুট। সেই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সুবাসকে ধরে রাখতে পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করল ‘তব জয়গানে ২০২৬’। বেঙ্গল ওয়েব সলিউশন নিবেদিত এবং ‘উমার ঘরে ফেরার গাথা’ ভাবনায় আগামী ৩ ও ৪ অক্টোবর রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত হতে চলেছে এই বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রথম দিনের আকর্ষণ ও নস্ট্যালজিয়া
উৎসবের প্রথম দিন, অর্থাৎ ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। ক্যাসেটের যুগের জনপ্রিয় চার শিল্পী—শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচী, মনোময় ভট্টাচার্য ও শম্পা কুণ্ডু তাঁদের সেই চিরচেনা পুজোর গান দিয়ে শ্রোতাদের মন জয় করবেন। পাশাপাশি ফিরে দেখা হবে পুজোর রেকর্ডের সোনালি দিনগুলিকে। এই গানে গানে গল্পে দর্শকদের নস্ট্যালজিয়ায় ভাসাবেন মৌণিতা চট্টোপাধ্যায়। প্রথম দিনের দ্বিতীয় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে মিউজিক্যাল থিয়েটার ‘অকাল বোধন’।
দ্বিতীয় দিনের চমক ও ‘মহিষাসুরমর্দিনী’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ৪ অক্টোবর সূচনা হবে ‘দুর্গায়ণ’ দিয়ে, যেখানে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে দেবী দুর্গার উপস্থিতি তুলে ধরবেন শিল্পীরা। সংগীতে থাকছেন দীপান্বিতা আচার্য, তীর্থ ভট্টাচার্য, মোহন কুমার সাহা ও সৃজন চট্টোপাধ্যায়। তবে দ্বিতীয় দিনের মূল আকর্ষণ হলো চিরকালীন সৃষ্টি ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ ও পঙ্কজকুমার মল্লিক রচিত সেই অমর সুরের ঐতিহ্যকে বজায় রেখে বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের কোয়্যার ও অর্কেস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে মঞ্চে ফুটিয়ে তোলা হবে। সামগ্রিক পরিকল্পনা ও চণ্ডীপাঠে থাকছেন সৃজন চট্টোপাধ্যায় এবং সংগীতায়োজনে দেবর্ষি মুখোপাধ্যায়।
শিল্পীদের মতে, ‘তব জয়গানে’ কেবল দেবীর আরাধনা নয়, বরং বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির এক অবিস্মরণীয় উদযাপন। পুজোর ঠিক আগে তিলোত্তমার সাংস্কৃতিক আঙিনায় এই মেগা ইভেন্ট যে দর্শকদের বাড়তি পাওনা হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।