বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বড় ধাক্কা! ওসামা বিন লাদেনের প্রশংসাকারী পাকিস্তানি ধর্মগুরুর আন্তর্জাতিক সম্মান বাতিল

পাকিস্তানের বিশিষ্ট ইসলামিক পন্ডিত তথা পাকিস্তান উলেমা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হাফিজ মুহাম্মদ তাহির মাহমুদ আশরফি ফের এক দফা তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি সৌদি আরবের মদিনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক দুই দিনের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ইরান-সমর্থিত শিয়াবাহিনী ‘আনসার আল্লাহ’ বা হুতি বিদ্রোহীদের চরম ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে ইসলামের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই এবং এরা মূলত সন্ত্রাসী।
তবে এই মন্তব্যের পাশাপাশি তাহির আশরফির অতীতের একাধিক বিতর্কিত বিষয় বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। কিছুদিন আগেই যুক্তরাজ্যের ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ ডেম সারা মুল্লালি আন্তঃধর্মীয় সহযোগিতা ও শান্তির প্রসারে তাঁকে ‘হবার্ট ওয়াল্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০৭ সালের তাঁর একটি পুরনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে আমেরিকা, ব্রিটেন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইসলামের সত্যিকারের যোদ্ধা বলে অভিহিত করেছিলেন। এই চরম আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আর্চবিশপ তাঁর সেই সম্মানজনক পদক ও পুরস্কার অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেন।
শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, তাহির আশরফি এমন একটি অপরাধী চক্রকে আড়াল বা রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন যাদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা বা ইশিনিন্দার মিথ্যা অভিযোগ এনে নিরীহ সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেল করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্ল্যাকমেলিং চক্রটি খোদ আশরফির নিজের ভাইয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হতো। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংঘাতের আবহে একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতার এমন বিতর্কিত ভূমিকা ও অতীত রেকর্ড আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।