একের পর এক টাস্ক বাতিল! নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে কার কাঁধে উঠল না ক্যাপ্টেন্সির মুকুট?

‘বিগ বস বাংলা’র ঘর মানেই নিত্যনতুন নাটক, উত্তেজনা আর বিস্ফোরক সব টুইস্ট। শোয়ের শুরু থেকেই রাজবীরের মতো চর্চায় ছিলেন অনুষ্কা ঘোষ। প্রথম সপ্তাহে সৃজলার চোট পাওয়ার ঘটনায় যিনি গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন, সপ্তাহ ঘুরতেই সেই সুর সম্পূর্ণ বদলে ফেললেন তিনি। সরাসরি সৃজলাকে ‘সিমপ্যাথি কার্ড’ খেলার অভিযোগে আক্রমণ করলেন অনুষ্কা। শুধু তাই নয়, ঘরের অন্দরে একের পর এক রাজনৈতিক টাস্ক বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

পয়লা অক্টোবরের পলিটিক্যাল বা রাজনীতির টাস্ক বিগ বসের নিয়মভঙ্গের অভিযোগে বাতিল হওয়ার পর নজর ছিল নতুন ক্যাপ্টেন্সির টাস্কের দিকে। কিন্তু সঞ্চালক ভরত কলের উপস্থিতিতে সেই টাস্কেও নেমে আসে খড়্গ। লাক্সারি বাজেট টাস্কে জীতু কমল ইচ্ছা করে অতিরিক্ত ছাপ্পা ভোট দিলেও নির্বাচন আধিকারিক রূপে ভরত তা ধরতে না পারায় সেই খেলা বাতিল করে বিগ বস। এর মাঝেই দর্শক মহলে নীরঞ্জন ও ঝিলমের সম্পর্কের শীতল দূরত্বের গুঞ্জনও স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

পরবর্তী সময়ে ক্যাপ্টেন্সির জন্য লড়াইয়ে নামেন রাজবীর, জীতু, নন্দিনী-মনামী এবং তনুশ্রী। নিয়ম ছিল, প্রতিযোগীদের নিজেদের সাদা ক্যানভাস রঙে ভরিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে, যাঁর ক্যানভাস সবচেয়ে পরিষ্কার থাকবে তিনিই হবেন ক্যাপ্টেন। কিন্তু খেলায় নেমেই রাজবীর ও নন্দিনীকে টার্গেট করেন বাড়ির বাকি সদস্যরা। মনামী, জীতু ও তনুশ্রীর মধ্যে তনুশ্রীকে বাদ দিয়ে বাকিদের ক্যানভাসে লাগাতার রঙ দিতে থাকেন সবাই। ফলস্বরূপ চরম হট্টগোল ও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে এই টাস্কও বাতিল করে দেন সঞ্চালক ভরত কল, যার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিযোগীরা।

টাস্কের রেশ কাটতে না কাটতেই স্পটলাইট কেড়ে নেন অনুষ্কা ও সৃজলা। রান্নাঘরে ঢোকা নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হওয়া তীব্র কথা কাটাকাটি পরে শোবার ঘরে আড্ডার আসরেও গড়ায়। সেখানেই সৃজলাকে কটাক্ষ করে অনুষ্কা বলেন যে তিনি এখানে শুধুমাত্র সহানুভূতি কুড়ানোর জন্য ‘সিমপ্যাথি কার্ড’ খেলছেন। এই যখন উত্তাল পরিস্থিতি, তখন ঘরে শান্তি ফেরাতে আবেগঘন একটি সুযোগ নিয়ে হাজির হয় বিগ বস। টানা পাঁচ সপ্তাহ প্রতিযোগীরা ঘরের অন্দরে কাটানোর পর বিগ বস নির্দেশ দেন, প্রত্যেকে যেন তাঁদের মনের মানুষের কাছে চিঠি লেখেন। স্ত্রী, সন্তান কিংবা বাবা-মায়ের কথা স্মরণ করে চিঠি লিখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রায় সব প্রতিযোগী। নিজেদের আবেগ প্রকাশ করে সেই চিঠি ডাকবাক্সে ফেলার এই মুহূর্তে পুরো ঘরটাই নস্ট্যালজিক আবহে ভেসে যায়।