খবর জানাবে নাকি ভুয়ো খবরে দেশ ভাঙবে? ইন্টারনেটের অন্ধকার দিক নিয়ে পিউ রিসার্চের বিস্ফোরক রিপোর্ট

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া শুধু ছবি পোস্ট করা বা বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং নির্বাচন, রাজনীতি এবং জনমত গঠনের অন্যতম বড় হাতিয়ার। প্রশ্ন উঠছে, সোশ্যাল মিডিয়া কি শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনে ৩৭টি দেশের মানুষের ওপর চালানো সমীক্ষায় এই বিষয়ে মিশ্র ও চাঞ্চল্যকর মতামত উঠে এসেছে। বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে সচেতন করতে বড় ভূমিকা নিলেও এর অন্ধকার দিকটি গণতন্ত্রের বুনিয়াদকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে।

৩৭টি দেশের সম্মিলিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তির কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৭৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে দারুণ সাহায্য করেছে। পাশাপাশি, ৬০ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, এটি রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয়ে নিজেদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে জোরালো করতে এবং তথ্যের আদান-প্রদানকে গতিশীল করতে ইন্টারনেটের এই অবদানকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

তবে এই ইতিবাচক চিত্রের ঠিক উলটো পিঠেই লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর উদ্বেগ, যা গোটা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলছে। ৩৭টি দেশ জুড়ে চালানো এই সমীক্ষায় ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া ভুল তথ্য, প্রোপাগান্ডা ও গুজবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভুল পথে চালিত করা অত্যন্ত সহজ করে তুলেছে। শুধু তাই নয়, ৬৮ শতাংশ মানুষের জোরালো বিশ্বাস, এই প্ল্যাটফর্মগুলো সমাজে নতুন করে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন ও মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে। একই মাধ্যম একদিকে যেমন তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে তেমনই সমাজকে অন্ধত্ব ও বিভেদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট আবার অনেক পশ্চিমা দেশের তুলনায় বেশ আলাদা, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব আরও গভীর ও সংবেদনশীল।