ইউনেস্কোর লোগো ভাঙিয়ে টাকার খেলা! দুর্গোৎসব কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াতেই কাঠগড়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

মা দুর্গাকে সামনে রেখে বাঙালি আবেগে সরাসরি হাত! সারদা, নিয়োগ কিংবা রেশন কেলেঙ্কারির পর এবার সরাসরি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে গেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র নথিতে। গত বৃহস্পতিবার ইডির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইউনেস্কোকে সামনে রেখে বেআইনিভাবে দুর্গাপুজোর ‘টিকিট’ বা পাস বিক্রির দুর্নীতির টাকা সোজা গিয়ে জমা হয়েছে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ভূকম্পন সৃষ্টি হয়েছে। এতদিন তৃণমূল স্তরে দলনেত্রীর সততা নিয়ে সাধারণ মানুষ বা অনুগামীরা যে দাবি করে আসছিলেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তথ্যে সেই ধারণায় বড় ধাক্কা লাগল।
ইডির এই বিস্ফোরক দাবির পরেই সুর চড়িয়েছে বিজেপি। প্রবীণ বিজেপি নেতা ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘‘দেখুন, নিজেকে সততার প্রতিমূর্তি রেখে বাকি সবাইকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। তাঁর নেতামন্ত্রীরা জেলে যাচ্ছেন, অথচ উনার গায়ে কোনো কালি লাগেনি। এই চালাকিটা বেশিদিন চলবে না।’’ এরপরই এক রূপক ব্যবহার করে তিনি বলেন, ‘‘এই বর্ষাতি গায়ে দিয়ে স্নান করার অভ্যাসটা ওনার চিরদিনের। পুরো পার্টি আজকে ডুবে গেছে। নেতামন্ত্রীরা সবাই কলুষিত হয়ে গেছে। উনি এতদিন বেঁচে ছিলেন, আজকে তাঁকেও ঘিরেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসছে।’’
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর পাস ও টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত এই দুর্নীতির তদন্তের জেরে ইতিমধ্যেই তৎকালীন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। এক্স হ্যান্ডেলে ইডির পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত প্রেস নোট প্রকাশ করার পরই সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছে বিজেপি। দলের অফিশিয়াল পেজ থেকে বলা হয়েছে, বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো শুধু কোনো উৎসব নয়, এটি আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক। কিন্তু ইউনেস্কোর নাম ও লোগো অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করে ব্যবসায়িক ফায়দা লোটা এবং টিকিটের টাকা আত্মসাতের এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। ইডির এই নথি থেকে পরিষ্কার যে, তৃণমূল আমলের তোলাবাজি বা দুর্নীতি কেবল নিচুতলায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা একেবারে শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো।