ডুয়ার্সবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! সেবকে তিস্তার ওপর ৬ লেনের মেগা ব্রিজ তৈরিতে ১১৭৫ কোটি টাকা মঞ্জুর

অবশেষে দশকব্যাপী দীর্ঘ আন্দোলনের পর স্বপ্ন পূরণের পথে ডুয়ার্স ও তরাইয়ের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। তিস্তা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেবক সেতু এবং তার অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের জন্য মোট ১১৭৫ কোটি টাকা আর্থিক অনুমোদনের কথা সগৌরবে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। তাঁর এই এক্স হ্যান্ডেল মারফত ঘোষণার পরই গোটা উত্তরবঙ্গজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। ঐতিহাসিক করোনেশন ব্রিজের ওপর চাপ কমানো এবং উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করে তুলতে এই প্রকল্প এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে।

দার্জিলিং জেলার সেবকে তিস্তার বুকে ৬.৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল ৬-লেনের সেতুটি নির্মিত হলে ডুয়ার্স থেকে শিলিগুড়ির যাতায়াতের দূরত্ব এক ধাক্কায় প্রায় ১১ কিলোমিটার কমে যাবে। ফলে এখন থেকে এক ঘণ্টারও কম সময়ে উত্তরবঙ্গের অলিখিত রাজধানীতে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে। ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক করোনেশন ব্রিজের বয়স এবং ক্ষয়ক্ষতিজনিত ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে বহুদিন ধরেই একটি নতুন সমান্তরাল সেতুর দাবি জোরালো হচ্ছিল। ২০১৫ সালে নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞদের একটি দল পরীক্ষা করে জানিয়েছিল, পুরনো এই আর্চ ব্রিজটি আর অতিরিক্ত ভার বহন করার অবস্থায় নেই। তারপর থেকেই মূলত আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে।

এদিন এই প্রকল্পের ঘোষণা করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ‘ডুয়ার্স ফোরাম ফর সোশ্যাল রিফর্ম’-সহ বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন। সংগঠনের অন্যতম কর্মকর্তা চন্দন রায় জানান, রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণেই আজ এই কাজে গতি এসেছে। পাশাপাশি, এই মেগা প্রকল্পের জন্য লাগাতার প্রায় ৬৫টি চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করায় দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এই সেতু নির্মিত হলে একদিকে যেমন পর্যটনে ব্যাপক গতি আসবে, অন্যদিকে তেমনি মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে প্রাণ বাঁচানোও সহজ হবে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তায় ধস বা জ্যামের কারণে অতীতে বহু রোগী অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেছেন, নতুন সেতু সেই আক্ষেপ দূর করবে।

সবচেয়ে বড় কথা, এই দ্বিতীয় সেবক সেতু কেবল সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং দেশের কৌশলগত ও ‘চিকেন নেক’ করিডোরের সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক সীমানা যুক্ত থাকায় সীমান্ত সুরক্ষায় সামরিক কনভয়ের গতি বৃদ্ধি করাও এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বহু দশকের বঞ্চনা ও আন্দোলনের পর অবশেষে এই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হতে চলায় উত্তরবঙ্গের চা বাগান ও অরণ্যঘেঁষা জনজীবন নতুন আশার আলো দেখছে।