নিজের দলের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে বিপক্ষের হয়ে প্রচার! অনন্ত সিংহের বড় পদক্ষেপে শোরগোল

বিহারের রাজনীতিতে ফের একবার চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিধান পরিষদ বা এমএলসি (MLC) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খোদ শাসক দল জনতা দল ইউনাইটেড (JDU)-এর অন্দরেই বড়সড় বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। পটনা স্নাতক নির্বাচনী এলাকার পাটাতনে দলের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা নীতীশ কুমারের অত্যন্ত কাছের মানুষ বলে পরিচিত নীরজ কুমারের বিরুদ্ধে গিয়ে সরাসরি প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন দলেরই বিতর্কিত বিধায়ক ও ‘বাউবলি’ নেতা অনন্ত সিংহ। নিজ দলের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি যেভাবে বিরোধীদের হাত শক্ত করেছেন, তাতে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক শিবির।
কী ঘটেছে পটনার রাজনীতিতে?
আসন্ন এমএলসি নির্বাচনে জেডিইউ নিজেদের পুরনো প্রার্থী নীরজ কুমারকে টিকিট দিলেও, প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন মোহামার বিধায়ক অনন্ত সিংহ। তিনি প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ’ সমর্থিত প্রার্থী অনুজ সিংহকে সমর্থন করেন এবং তাঁর হয়ে মাঠে নেমে পড়েন। শুধু তাই নয়, অনুজ সিংহের মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে নিজের বাড়িতে ৫০ হাজার রসগোল্লা তৈরি করান এবং প্রকাশ্য রাজপথে অনুজের সঙ্গে খোলা জিপে চড়ে রোড শো করেন। দলের এই চরম নির্দেশ অমান্য করার ঘটনাকে জেডিইউ হাইকমান্ড অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।
নীতীশ আবাসে জরুরি বৈঠক ও অন্তর্দ্বন্দ্বের জল্পনা
অনন্ত সিংহের এমন খামখেয়ালি ও বিদ্রোহী মনোভাব সামনে আসার পরেই নীতীশ কুমারের বাসভবনে জরুরি তলব করা হয় শীর্ষ নেতাদের। মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের সর্বোচ্চ নেতা নীতীশ কুমারের সঙ্গে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে এক ম্যারাথন বৈঠক করেন দলের কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় ঝা এবং জ্যেষ্ঠ নেতা বিজেন্দ্র যাদবরা। দলের অন্দরের গুঞ্জন, এই বিদ্রোহ শুধু অনন্ত সিংহের ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, এর নেপথ্যে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণও রয়েছে। বিশেষ করে বৈঠকে হেভিওয়েট নেতা লलन সিংয়ের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে, দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এই বড় ফাটল কীভাবে সামাল দেন খোদ নীতীশ কুমার, এখন সেটাই দেখার।