২ অক্টোবর পকেটে ক্যাশ না রাখলে মহাবিপদে পড়বেন! দোকানগুলির কিউআর কোড ঢাকবে কালো কাপড়ে

পুজোর মরশুমের ঠিক আগে বড়সড় বিপাকে পড়তে চলেছেন সাধারণ ক্রেতারা। আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন দেশজুড়ে ‘নো ইউপিআই ডে’ (No UPI Day) পালনের ঘোষণা করেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ওই দিন বাজার করতে গেলে পকেটে ক্যাশ টাকা রাখা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। মুম্বই থেকে দিল্লি—দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছোট-বড় দোকানদাররা গ্রাহকদের থেকে কোনো ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি সমস্ত দোকানের কিউআর (QR) কোড স্ক্যানার কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে এবং সাউন্ড বক্সগুলিও সম্পূর্ণ খामोশ থাকবে।
কেন এই হঠাৎ প্রতিবাদ?
এই সর্বাত্মক প্রতিবাদের মূল কারণ হল মার্চেন্ট ডিসकाउंट রেট বা এমডিআর (MDR) নিয়ম। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সরকার ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনের ওপর ০.৪০ শতাংশ এমডিআর চার্জ ধার্য করতে চলেছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের লাভের মার্জিন তলানিতে গিয়ে ঠেকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফেডারেশন অফ রিটেল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (FRTWA) এবং চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)-র মতো একাধিক সংগঠন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, উৎসবের বাজারে অতিরিক্ত এই করের বোঝা বইতে হলে ছোট ও মাঝারি দোকানদারদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
সরকারের সাফাই ও নিয়মাবলী
ব্যবসায়ীদের এই অসন্তোষের মাঝেই অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন এই নিয়মের প্রভাব মূলত বড় ব্যবসায়ীদের ওপরই পড়বে। যাঁদের মাসিক ইউপিআই আয় ১ লক্ষ টাকার কম, তাঁদের এই চার্জ থেকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার্জের সীমা ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, পেমেন্টের অঙ্ক যতই বড় হোক না কেন, ৩০০ টাকার বেশি চার্জ কাটা হবে না।
তবে এই আশ্বাসেও মন গলছে না দেশের একটা বড় অংশের ব্যবসায়ীদের। দিল্লির মতো বড় শহরে শতাধিক বড় বাণিজ্যিক সংগঠন এই ধর্মঘটে সামিল হলেও কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) অবশ্য এই বয়কট আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। সবমিলিয়ে, ২ অক্টোবরের এই অভিনব প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন এবং উৎসবের বাজারকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার।