বইয়ের বিবাদ গড়াল রক্তে! কলকাতার নামী স্কুলে সহপাঠীর ধারাল অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম নবম শ্রেণির ছাত্র

শহর কলকাতার প্রথম সারির নামজাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাউথ পয়েন্ট স্কুল গত বুধবার আচমকাই এক নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক ঘটনার জেরে খবরের শিরোনামে উঠে আসে। স্কুল চলাকালীন বই নিয়ে দুই নবম শ্রেণির ছাত্রের মধ্যে বচসা বা বিবাদ চরমে ওঠে। আর সেই তুচ্ছ বিবাদই শেষ পর্যন্ত গড়ায় রক্তারক্তিকাণ্ডে। সহপাঠীর বিরুদ্ধে ধারাল ছুরি দিয়ে হামলার গুরুতর অভিযোগ ওঠে, যার জেরে ছুরির আঘাতে ক্লাসরুমেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এক ছাত্র। স্কুলের প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত তাকে রুবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে কেমন আছে সেই দুই পড়ুয়া এবং কী জানাল স্কুল কর্তৃপক্ষ?

স্কুল কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট দাবি, আহত ছাত্র বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং শিশুটির শারীরিক অবস্থার ওপর প্রতি মুহূর্তে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ১ অক্টোবর থেকে স্কুল স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত অন্য ছাত্রকে আপাতত স্কুলে না এনে বাড়িতে রাখার এবং একজন পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর মাধ্যমে নিয়মিত কাউন্সেলিং করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা বা পুলিশ পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার দিকেও সতর্ক নজর রাখছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহে পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে।

সহপাঠীর ধারাল অস্ত্রের হামলায় গুরুতর জখম হওয়া নবম শ্রেণির ওই ছাত্রের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। রুবি জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। গলা এবং বাঁ হাতের একাধিক আঙুলে গভীর কাটা জখম নিয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরই ছাত্রটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জন ডা. দীপাঞ্জন দে অস্ত্রোপচারের সময় দেখতে পান, ছাত্রটির গলায় একটি অত্যন্ত গভীর ক্ষত রয়েছে, যা মুখের দিক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এমনকি, ক্ষতটির নীচের পেশিতেও আঘাত লেগেছিল। পাশাপাশি, বাঁ হাতের তর্জনীতে এক্সটেনসর টেন্ডনেও আঘাত রয়েছে এবং অন্যান্য একাধিক আঙুলে গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে হাসপাতাল সূত্রে খবর, সমস্ত আঘাতের সফলভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।

আহত ছাত্রের বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পরেও তিনি তাকে ওই স্কুলেই পাঠাবেন। পাশাপাশি, তিনি অভিযুক্ত ছাত্রের কঠোর শাস্তির বদলে তার ‘মানসিক সংশোধন’ কামনা করেছেন, যা সমাজের প্রতিটি সচেতন মহলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।