“ভ্রাম্যমান বিউটি-পার্লার” বলে চরম আক্রমণ, আজ সেই নয়নাই কিনা কুণালের রক্ষাকর্তা! কীভাবে বদলাল রাজনৈতিক সমীকরণ?

রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা চিরশত্রু বলে কিছু হয় না—এই আপ্তবাক্যটি ফের একবার প্রমাণ করে দিল উত্তর কলকাতার তৃণমূলের অন্দরমহল। সুদীপ-নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কুণাল ঘোষের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং তীব্র বাকযুদ্ধ একসময় রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এমনকি এর আগে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কুণালকে ‘ভ্রাম্যমান বিউটি-পার্লার’ বলেও কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সমস্ত তিক্ততা ও পুরনো সমীকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবার কুণাল ঘোষের উপর হওয়া হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চারে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন স্বয়ং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়!

সাম্প্রতিক সময়ে কুণাল ঘোষের উপর পর পর শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটে। শ্রীরামপুরে মমতার সভায় যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িতে লোহার রড নিয়ে হামলা চালানো হয়, ডিম ছোড়া হয় এবং নেত্রীর নির্দেশে তাঁকে ফিরে আসতে বাধ্য করা হয়। এই রোমহর্ষক ঘটনার পরেই সুর চড়িয়েছেন নয়না। তাঁর সাফ কথা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু কুণালদার ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালানো হবে—এটা বরদাস্ত করা যায় না। এমনকি এই ঘটনার নেপথ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ করে তিনি জানান, নিজেদের দোষ ঢাকতেই অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ঘোরানোর চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, কুণাল ঘোষও এই পরিস্থিতিতে পুরনো সমস্ত তিক্ততা ভুলে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর কলকাতার তৃণমূলের অন্দরে সুদীপ বনাম কুণাল ও তাপস রায়ের সমীকরণের ইতিহাস দীর্ঘ। চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না এবং কুণালের এই নতুন রাজনৈতিক রসায়ন এক ধাক্কায় ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে হামলার রেশ এবং অন্যদিকে আকস্মিক এই রাজনৈতিক বন্ধুত্বের হাত মেলানো—সব মিলিয়ে সরগরম বাংলার রাজনীতি।