বিহারের জঙ্গল থেকে সরাসরি হাসিমারা বায়ুসেনা ছাউনিতে! বক্সার নতুন অতিথিকে দেখতে উপচে পড়া ভিড়

বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের ঘন জঙ্গল থেকে আকাশপথে এয়ার লিফট করে বাংলার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে নিয়ে আসা হলো প্রায় তিন বছর বয়সি এক বাঘিনীকে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিকূল আবহাওয়া ও চরম প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে ৭০ জনেরও বেশি বনকর্মী ও বিশেষজ্ঞের একটি দল এই অপারেশনের পেছনে দিনরাত এক করেছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যার ঠিক আগে ট্র্যাঙ্কুলাইজার স্পেশালিস্টদের নিখুঁত নিশানায় ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু হয় বাঘিনীটি। সোমবার জঙ্গলে একটি পূর্ণবয়স্ক মোষ টোপ হিসেবে রাখা হয়েছিল। সেই মোষটিকে শিকার করে বাঘিনী যখন গভীর জঙ্গলে স্বস্তিতে খাচ্ছিল, ঠিক তখনই সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাকে ‘ডার্ট’ করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই তার গলায় পরানো হয় বিশেষ রেডিও কলার।
প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর, বুধবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ গোরখপুর এয়ারপোর্ট থেকে সম্পূর্ণ মেডিক্যাল সাপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় খাঁচায় পুরে বাঘিনীটিকে আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা বায়ুসেনা ছাউনিতে উড়িয়ে আনা হয়। এই বিশেষ এয়ার লিফটের জন্য ব্যবহার করা হয় ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তিশালী এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। ভোর ৪টে ৪৫ মিনিট নাগাদ হাসিমারায় অবতরণের পর প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বন্যপ্রাণ চিকিৎসক ও বাঘ বিশেষজ্ঞরা বাঘিনীর শারীরিক প্যারামিটার ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এরপর তাকে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তায় সড়কপথে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া গেট দিয়ে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে নিরাপদে জঙ্গলে প্রবেশ করানো হয়।
বিহারের চম্পারণ জেলার বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে গোরখপুর এয়ারপোর্টের দূরত্ব ১২৫ কিলোমিটার এবং হাসিমারা বায়ুসেনা ছাউনি থেকে বক্সার দূরত্ব প্রায় ৩৭ কিলোমিটার। বাঘিনীর নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে বক্সা জঙ্গলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বনকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আপাতত তাকে বক্সার ২৫ মাইলে অবস্থিত বন দফতরের বিশেষ বাঘ এনক্লোজারে রাখা হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বক্সার ২.২ হেক্টরের প্রাকৃতিক ঘেরাটোপে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত করা হবে এই নতুন অতিথিকে।