ক্যান্সার চিকিৎসায় যুগান্তকারী বিপ্লব! মাত্র এক রাতেই অসম্ভবকে সম্ভব করল গুগলের এআই টুল

ক্যান্সার চিকিৎসায় বিগত কয়েক দশক ধরে চিকিৎসকদের কাছে সবথেকে বড় আতঙ্কের নাম হলো ‘এমওয়াইসি’ (MYC) প্রোটিন। মানবদেহের কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এই প্রোটিনের ভূমিকা থাকলেও, ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এটি অতিসক্রিয় বা অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। যার ফলে কোষগুলি শরীরের নিয়ন্ত্রণে না থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে এবং মারণ টিউমার তৈরি করে। কিন্তু দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও বিজ্ঞানীরা এমন কোনো কার্যকর ওষুধ বা পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারেননি, যা সরাসরি এই জেদি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করতে পারে। আর এখানেই আমূল পরিবর্তন এনে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)।

গুগলের এআই-এর অবিশ্বাস্য কাণ্ড

চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। হোয়াইটহেড ইনস্টিটিউটের গবেষক আনা পার্টলের একটিমাত্র নির্দেশ বা প্রম্পটের জবাবে গুগলের একটি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল যা করে দেখিয়েছে, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। গবেষকের দেওয়া নির্দেশ মেনে ওই এআই টুলটি মাত্র এক রাতের মধ্যে চিকিৎসা সংক্রান্ত ৭০০টিরও বেশি গবেষণাপত্র নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে ফেলে।

১০৮টি উপায়ের মধ্যে থেকে নিখুঁত সমাধান

দীর্ঘ ডেটা অ্যানালিসিস শেষে ওই এআই টুলটি এমওয়াইসি প্রোটিনকে দমন করার মোট ১০৮টি সম্ভাব্য উপায় বা আইডিয়া খুঁজে বের করে। এরপর বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক মূল্যায়নের মাধ্যমে তার থেকে ১০৭টি উপায় বাতিল করে দেয় এবং সম্পূর্ণ নতুন, অভিনব অথচ অত্যন্ত কার্যকর একটিমাত্র পথ বা ধারণা সামনে আনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কার আগামী দিনে ক্যানসার গবেষণার গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের চেনা অচিকিৎসাযোগ্য বাধার প্রাচীর ভেঙে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবসভ্যতার আশীর্বাদ হয়ে উঠছে, এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন।