রান্নাঘর থেকে বিশ্ববাণিজ্যে! যোগী রাজ্যে ঘরোয়া মহিলাদের রোজগার দেখে চোখ ছানাবড়া শিল্পপতিদের

একসময় যাঁদের পরিচিতি আটকে থাকত স্বামী, বাবা কিংবা ছেলের নামের পরিচয়ে, আজ তাঁরাই নিজেদের তৈরি ব্র্যন্ড ও কোম্পানির মালিক। গ্রেটার নয়ডায় আয়োজিত উত্তর প্রদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় (UPITS 2026) ফুটে উঠল নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য ও বাস্তব রূপকথা। শুধু সাহায্য নেওয়ার দিন শেষ, রাজ্যের ৭৫টি জেলার ৭৫ জন সফল নারী উদ্যোক্তা এবার তৈরি করছেন হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান।
গৃহিণী থেকে কোটিপতি ব্র্যান্ডের কর্ণধার মেলায় এসে যে কেউ অবাক হবেন। কোনো কৃত্রিম আয়োজন নয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বড় বড় ক্রেতাদের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক চুক্তি সামলাচ্ছেন গ্রামীণ মহিলারা।
গাজিয়াবাদের অঞ্জলি: গৃহস্থালীর কাজের ফাঁকে শখের আঁকাআঁকিকে ব্যবসায় বদলেছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে কাপড়ে ডিজাইন করা শুরু করেছিলেন। আজ তাঁর ডিজাইন করা স্যুট, দোপাট্টা বা জিন্স বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি প্রায় ১০ হাজার টাকায়! শুধু তাই নয়, নিজের উদ্যোগে কাজ দিয়েছেন আরও ৭ জন নারীকে।
অন্যান্য আকর্ষণ: আগ্রার জারি-জারদোজি, আমরোহার খাঁটি মশলা, কনৌজের বিশ্বখ্যাত আতর, অযোধ্যার ভেষজ চা কিংবা সিদ্ধার্থনগরের সরোজ দেবীর কলার ছোবড়া দিয়ে তৈরি আধুনিক পরিবেশবান্ধব সামগ্রী—দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের নজর কাড়ছে সমানভাবে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও সরকারি ঋণের কামাল এই রূপান্তরের পেছনে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে উত্তর প্রদেশ সরকারের নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG)। জেলা গ্রামোদ্যোগ উন্নয়ন সংস্থা ও রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশনের সহজে পাওয়া ঋণ এই নারীদের প্রাথমিক মূলধন জুগিয়েছে। গ্রামে তৈরি স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলো মহিলাদের হিসেব রাখা, পণ্যের সঠিক দর নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারকে বোঝার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
‘গ্রাম থেকে গ্লোবাল’ যাত্রায় বদলাচ্ছে সমাজ বাণিজ্য মেলায় আসা ক্রেতাদের থেকে সরাসরি ফিডব্যাক নিয়ে নারী উদ্যোক্তারা বুঝছেন প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও বাজারের চাহিদা। ‘সোল ফর আর্থ’ কিংবা ‘প্রতিভা ডিজাইনার হাব’-এর মতো ব্র্যান্ড নেমগুলোর পেছনে রয়েছে একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সরকারি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার এই জয়যাত্রা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ভারতীয় নারীরা আজ আর কেবল উপার্জনের সমর্থক নন, তাঁরাই এখন অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।