‘সবুজ সাথী’ অতীত, এবার রাজ্যে এল ‘সারথি’! সাইকেল বিতরণ মঞ্চ থেকে মমতাকে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

রাজ্যে স্কুলপড়ুয়াদের জন্য একসময়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের নাম বদলে এবার নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের নতুন ‘সারথি’ প্রকল্পের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল বিতরণ শুরু হয়েছে। আর এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘিরেই ফের রাজনৈতিক পারদ চড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। হাওড়ার একটি স্কুলে আয়োজিত সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ও অব্যবস্থার গুরুতর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
‘সবুজ সাথী’ থেকে ‘সারথি’: নাম বদলের নেপথ্যে কী?
তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় স্কুলপড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল সবুজ সাথী প্রকল্প। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর সেই প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘সারথি’। নতুন এই নামের অধীনেই পডুয়াদের হাতে সাইকেল তুলে দেওয়া শুরু হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পড়ুয়াদের হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পুরনো সরকারের আমলে চলা ওই প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পাঞ্জাবের যন্ত্রাংশ এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সবুজ সাথী প্রকল্পের সময় সাইকেলের যন্ত্রাংশগুলি ভিনরাজ্য অর্থাৎ পাঞ্জাব থেকে আনা হতো এবং সেগুলিকে এ রাজ্যে এনে জোড়া বা একত্রিকরণ করা হতো। অর্থাৎ সাইকেলগুলি পুরোপুরি রাজ্যে তৈরি হতো না, কেবল সংযোজন বা অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজটুকু এখানে করা হতো।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ তুলে তিনি জানান, এই একত্রিকরণের কাজগুলি পেতেন তৎকালীন প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আধিকারিকের পরিবারের আত্মীয়রাই। যদিও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা পাঞ্জাবের কোন সূত্র থেকে যন্ত্রাংশ আসত, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নাম প্রকাশ করেননি তিনি। তা সত্ত্বেও এই চাঞ্চল্যকর দাবিতে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
গুণমান ও অব্যবস্থা নিয়ে কটাক্ষ
তৃণমূল আমলের সবুজ সাথী প্রকল্প নিয়ে অতীতেও একাধিক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। অতীতে প্রশাসনিক প্রধান জেলা সফরে গিয়ে নিজে হাতে পড়ুয়াদের সাইকেল দিলেও, সেই সাইকেলের গুণমান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছনো সাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুব সহজেই খুলে যেত এবং এর স্থায়িত্ব কম ছিল বলে অভিযোগ শোনা যেত। পাশাপাশি, বহু সাইকেল গোডাউনে বা বন্ধ ঘরে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় তাতে জং ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনারও সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী।
বাংলাতেই সাইকেল তৈরির মাস্টারপ্ল্যান
প্রাক্তন সরকারের আমলের এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ উন্নতমানের সাইকেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এবার থেকে পড়ুয়ারা আগের চেয়ে অনেক ভালো মানের সাইকেল পাবে।
শুধু তাই নয়, ভিনরাজ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পশ্চিমবঙ্গেই যাতে এই সাইকেলগুলি তৈরি করা যায়, সেই পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। যাঁরা রাজ্যে সাইকেল তৈরির কারখানা স্থাপন করবেন, তাঁদের সরকারিভাবে জমি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকেই সাইকেল কেনার বার্তা দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে, সাইকেল বিতরণ থেকে শুরু করে মধ্যাহ্নভোজ এবং প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে ধারালো আক্রমণ—এদিনের পুরো অনুষ্ঠানটিই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।