আইআরডিএআই-এর এক ধাক্কায় তুশের মতো উড়ল পিবি ফিনটেক, বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত!

শেয়ার বাজারে বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে অনলাইন ইন্স্যুরেন্স জায়ান্ট পলিসি বাজারের প্যারেন্ট কোম্পানি পিবি ফিনটেক (PB Fintech)। গত চার কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই পতন বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যেখানে এই বিশাল ক্ষতির প্রায় ৩৬ শতাংশ কেবল এক দিনের ট্রেডিং সেশনেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
বাজারকে সামাল দিতে একাধিক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তার কোনোটিই কাজে আসেনি। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর এইচডিএফসি মিউচুয়াল ফান্ড বড় অংকের বিনিয়োগ করে প্রায় ২৫ লক্ষ শেয়ার কিনেছিল। পাশাপাশি, ব্রোকারেজ ফার্ম বার্নস্টেইনও কোম্পানিটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছিল। তা সত্ত্বেও পতন রোধ করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক ট্রেডিং সেশনে বিএসই-তে (BSE) কোম্পানিটির শেয়ার ৪.৭৭ শতাংশ পতনের পর ১,০৯৬.৯০ টাকায় নেমে আসে। ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিংয়ের সময় এটি আরও নিচে নেমে ১,০৭৬.৩৫ টাকায় পৌঁছায়।
এই আকস্মিক পতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারতের ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অথরিটি আইআরডিএআই (IRDAI)-এর একটি নতুন প্রস্তাব। বিমা পলিসি বিক্রির নিয়মে বড়সড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, স্বাস্থ্য, মোটর এবং জীবন বিমার ওপর কমিশন পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা বা ক্যাপ (Cap) নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হলে তা সরাসরি পিবি ফিনটেকের মূল ব্যবসায়িক মডেলের ওপর বড় আঘাত হানবে।
কমিশনের ওপর এই নিয়ম লাগু হওয়ার জেরে পলিসি বাজারের সামগ্রিক আয়ের ওপর গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। খোদ কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই প্রস্তাবগুলির কারণে তাদের মূল রাজস্ব প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ব্যবসার ওপর। এই বিপুল ক্ষতির ধাক্কা সামাল দিতে কোম্পানি এখন নতুন কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেছে। খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন কর্মী নিয়োগে কাটছাঁট এবং বিপণন বা মার্কেটিং বাজেট কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির পর একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ব্রোকারেজ হাউস পিবি ফিনটেক নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে। এইচএসবিসি এই শেয়ারটিকে ডাউনগ্রেড করে ‘হোল্ড’ রেটিং দিয়েছে এবং এর টার্গেট মূল্য ২,১00 টাকা থেকে কমিয়ে ১,১৫০ টাকায় নামিয়ে এনেছে। পাশাপাশি, দেশীয় ব্রোকারেজ ফার্ম মতিঝিল ওসওয়ালও ১,১৫০ টাকা টার্গেট প্রাইস রেখে তাদের ‘নিউট্রাল’ রেটিং বজায় রেখেছে। তবে বিদেশি ব্রোকারেজ ফার্ম বার্নস্টেইনের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা আলাদা। তারা এটিকে ‘আউটপারফর্ম’ রেটিং দিয়ে টার্গেট মূল্য ২,৩১০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে তাদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আইআরডিএআই-এর নতুন নিয়ম বাস্তবায়িত হলে পিবি ফিনটেকের ইন্স্যুরেন্স টেক রেট প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। যার জেরে ২০২৮ অর্থবর্ষের মুনাফায় প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।