নাবালক শিশুদের রাজনৈতিক হাতিয়ার! উত্তরপ্রদেশের কোচিং সেন্টারে ইডির হানার মতো চাঞ্চল্যকর কান্ড!

উত্তরপ্রদেশের ইটাহের একটি কোচিং সেন্টারকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশজুড়ে চরম শোরগোল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই তথাকথিত কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল বিতর্কিত ভিডিও তৈরিতে ইচ্ছাকৃতভাবে নাবালক শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেই সমস্ত প্ররোচনামূলক ভিডিও পরবর্তীতে ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেদার ছড়িয়েও দেওয়া হচ্ছিল। শিশুদের মৌলিক গোপনীয়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক আঘাত হানার অপরাধে এই ঘটনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে (NHRC) একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে প্রিয়ঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বাধীন এনএইচআরসি-র বিশেষ বেঞ্চ অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে ইটাহের জেলাশাসক, সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি), মেটা ইন্ডিয়ার কান্ট্রি হেড এবং কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) মন্ত্রকের সচিবকে আনুষ্ঠানিক নোটিস জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট বা পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মানবাধিকার কমিশনের এই নির্দেশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের শনাক্ত করে তাদের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও মানসিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর নেপথ্যে কোন কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা যুক্ত থেকে এই ধরনের রাজনৈতিক ভিডিওর চিত্রনাট্য লিখেছেন, শ্যুট করেছেন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে দ্রুত এফআইআর দায়ের সহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে।

পাশাপাশি, এই ধরনের সংবেদনশীল ও বেআইনি ভিডিও বারবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে ভাইরাল হলো এবং এর মাধ্যমে কোনো আর্থিক লাভ বা আয় করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে মেটা ইন্ডিয়াকে জোরালো জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং সাইবার স্পেসে তাদের অপব্যবহার রোধে এই তদন্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে পুরো ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে জোরদার তদন্ত চলছে।