প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বরখাস্তের দাবি! সিডব্লিউসি বৈঠকে মোদী সরকারকে বেনজির আক্রমণ খাড়গের!

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং মোদী সরকারের ‘হাতের পুতুল’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। একই সঙ্গে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে বরখাস্ত করার জোরালো দাবি তোলেন তিনি। খাড়্গের দাবি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা রক্ষা ও গণতন্ত্র বাঁচানোর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও নৈতিকতার খাতিরে ইস্তফা দেওয়া উচিত।

সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে আসা তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে খাড়্গে জানান, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী বিগত ১০ মাসে এসআইআর (SIR) ও ফর্ম ৬ পরিবর্তনের মতো নীতিগত সিদ্ধান্তগুলিতে সিইসি-র একতরফা কর্মপদ্ধতির বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশনের অন্দরে শীর্ষ আধিকারিকদের এই অনৈক্য ও লিখিত আপত্তির ঘটনা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে বলে মত তাঁর।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে খাড়্গে বলেন, “যাঁকে তাঁর নিজের দুই সহকর্মীই বিশ্বাস করেন না এবং যিনি একতরফাভাবে শাসকদলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চক্রান্তে লিপ্ত, তাঁর এক মুহূর্তও এই পদে থাকার অধিকার নেই। ওঁকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা উচিত।” এর পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর পূর্ববর্তী সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে রাহুল যা আশঙ্কা করেছিলেন, তা আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

ভোটাধিকার রক্ষায় কংগ্রেসের ৫ দফা দাবি
বৈঠক থেকে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে ৫টি নির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে কংগ্রেস:
১. ভোটার তালিকা সংশোধন বা পরিবর্তনের যাবতীয় তথ্য অবিলম্বে সর্বসাধারণের জন্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
২. যে সমস্ত ভোটারের নাম তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আইনি আপিল ও নাম পুনর্বহালের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ দিতে হবে।
৩. দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলকে সময়মতো সহজ ও ডিজিটাল ফর্ম্যাটে ভোটার তালিকা হস্তান্তর করতে হবে।
৪. ভোটার তালিকার গুরুতর অসঙ্গতিগুলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
৫. ফর্ম ৬-এর নিয়মে নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যে অসাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে।

যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পূর্বে জানানো হয়েছিল যে, বহু-সদস্য বিশিষ্ট এই সংস্থায় মতপার্থক্য বা নোট অফ ডিসেন্ট পেশ করা একটি রুটিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল। তবে খাড়্গের এই হুঙ্কার বুঝিয়ে দিল যে, আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বিরোধী শিবিরের প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে।