চটকল শ্রমিকদের এবার নিজেদের পাকা বাড়ি! জলের দরে ফ্ল্যাট দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা করল রাজ্য সরকার!

রাজ্যের চটকল শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও মানবেতর জীবনযাপনের অবসান ঘটিয়ে এবার তাঁদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক পাকা আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা–আরবান ২.০ (PMAY-U 2.0)-এর আওতায় ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ইন পার্টনারশিপ’ বা AHP প্রকল্পের মাধ্যমে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে আরও প্রসারিত করা হবে।
শ্রম দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির যে সমস্ত চটকল শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার এখনও পুরোনো ও বেহাল শ্রমিক কোয়ার্টারে বসবাস করতে বাধ্য হন, তাঁদের নিরাপদ, স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন উপহার দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় পুরসভা, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে যোগ্য ও প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে প্রতিটি এলাকার পুরসভাগুলি দায়িত্ব পালন করছে।
PMAY-U 2.0-এর নির্দিষ্ট নিয়মাবলী অনুযায়ী, যে সমস্ত চটকল শ্রমিকের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং যাঁদের দেশের অন্য কোথাও কোনো পাকা বাড়ি নেই, শুধুমাত্র তাঁরাই এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি নতুন আবাসন বা ফ্ল্যাটের আয়তন রাখা হয়েছে ৩০ থেকে ৪৫ বর্গমিটারের মধ্যে, যার ভেতর থাকবে দুটি আরামদায়ক ঘর, একটি আধুনিক রান্নাঘর এবং পৃথক শৌচাগার।
প্রকল্পের কাজ দ্রুত রূপায়িত করতে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভা এলাকায় সমস্ত রকম দায়মুক্ত জমি চিহ্নিত করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হুগলি জেলায় চটকল শ্রমিকদের সুবিধার্থে এবং সহজ উপায়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শ্রম কমিশনারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই বিশেষ উদ্যোগের প্রতি অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে, যেখানে প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক এই নতুন আবাসন প্রকল্পের জন্য তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
শ্রম দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল ইট-কাঠ-পাথরের সাধারণ আবাসন নির্মাণ নয়; বরং এটি চটকল শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারগুলির সামাজিক মর্যাদা, জীবনযাত্রার মান এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। শহরতলির এই অবহেলিত কর্মজীবী মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাঁদের জীবনকে নতুন দিশা দেখাতে সরকারের এই মহাযজ্ঞ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।