এসএফআই করার খেসারত? জলপাইগুড়ির কলেজে ক্লাস চলাকালীন যা ঘটল, তা কল্পনাও করতে পারবেন না!

জলপাইগুড়ির আনন্দ চন্দ্র কলেজে ক্লাস চলাকালীন এক ছাত্রের আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার দুপুরে আচমকাই কলেজ চলাকালীন ওই ছাত্র তাঁর ব্যাগ থেকে কেরোসিন তেল বের করে নিজের গায়ে ঢালেন এবং দেশলাই দিয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে ক্লাসরুমে উপস্থিত এক সতর্ক অধ্যাপক সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং ওই ছাত্রের জীবন বাঁচান। এই ভয়াবহ ঘটনার পর কলেজ চত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় মঙ্গলবারও সেখানে পুলিশ পিকেটিং বসানো হয়েছে।
অর্ণব সরকার নামে ওই ভুক্তভোগী ছাত্রের অভিযোগ, কলেজে এলেই এবিভিপির কর্মীরা তাঁকে নানাভাবে উত্যক্ত করে এবং নিয়মিত মারধরের চেষ্টা চালায়। তিনি দাবি করেন, এর আগেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দিন কলেজে আসার সময় এক বন্ধু তাঁকে সতর্ক করে জানায় যে আজও তাঁকে পেটানো হতে পারে। এই চরম আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতার কথা জানতে পারার পরেই তিনি বাড়ি থেকে কেরোসিন তেল এবং দেশলাই সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। ক্লাসের মধ্যে তাঁকে হেনস্থা করা হতে পারে—এই আশঙ্কায় তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানান অর্ণব। তাঁর আরও দাবি, তিনি এসএফআই (SFI) করেন বলেই এবিভিপি কর্মীরা মাঝেমধ্যে তাঁর উপর চড়াও হয়। এ বিষয়ে বারবার কলেজ কর্তৃপক্ষ ও থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলেই তাঁর অভিযোগ।
অন্যদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে আনন্দ চন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস দাস সম্পূর্ণ অবাক ও উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “এমন কাণ্ডে আমরা হতবাক। কোন ছাত্র ব্যাগে কী নিয়ে আসছে তা আমাদের বোঝা কখনোই সম্ভব নয়। ক্লাস চলাকালীন ছাত্রটি কেরোসিন তেল ঢেলে নিজেকে শেষ করার চেষ্টা করে, তবে আমাদের এক অধ্যাপক তাকে সাহসিকতার সঙ্গে বাঁচান। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।” তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উড়িয়ে অধ্যক্ষ স্পষ্ট জানান যে, ছাত্রটির সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, ছেলেটি এর আগে কখনো কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জানায়নি। যদিও অ্যান্টি র্যাগিং কমিটিতে সে একটি অভিযোগ করেছিল, কিন্তু নির্ধারিত দিনে কমিটি এবং ছাত্ররা বসা সত্ত্বেও অর্ণব উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে এগোনো সম্ভব হয়নি।
এদিকে জলপাইগুড়ির এবিভিপি নগর ব্লক কনভেনর বিনায়ক দাস সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ঘটনার সঙ্গে এবিভিপি কোনোভাবেই জড়িত নয়। আমাদের কোনো সংগঠনের কর্মী তাকে কোনো সময় মারধর করেনি এবং সেদিনও কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। ছেলেটি কীভাবে বাড়ি থেকে ব্যাগে করে কেরোসিন এনে ক্লাস চলাকালীন এরকম কাণ্ড ঘটাল, সেটাই এখন উচ্চপর্যায়ের তদন্তের বিষয়।” পুলিশ পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।