টাকার পাহাড় গুনতে এল ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন! বিহারের এই দুর্নীতিগ্রস্ত দম্পতির কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ মিলতেই তোলপাড়

বিহারে প্রশাসনিক মহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় অভিযান চালিয়েছে ভিজিল্যান্স ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো। পাটনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম – সাপ্লাই) রবীন্দ্র কুমার দিওয়াকর এবং তাঁর স্ত্রী, দানাপুরের সাব-রেজিস্ট্রার কুমারী সুইটির মোট চারটি ঠিকানায় একযোগে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তল্লাশি দল প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা নগদ, ২৫০ গ্রাম সোনা ও রুপার গয়না, ৪৮টি দামি ঘড়ি এবং পাটনা, ফুলওয়ারি শরীফ ও বেগুসরাইয়ের একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও বাড়ি সংক্রান্ত বহুমূল্য সম্পত্তির দলিল উদ্ধার করেছে। নগদ টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে, তা গুনে শেষ করতে রীতিমতো ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন আনতে বাধ্য হয় ভিজিল্যান্স টিম।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রবীন্দ্র কুমার দিওয়াকর ২০০০ সালে সরকারি শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এরপর ২০০৯ সালে তিনি সারণে জেলা তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্ব পান এবং পরবর্তীতে উন্নীত হয়ে বিহার প্রশাসনিক পরিষেবার কর্মকর্তা হন। তিনি কাটিহার, দারভাঙ্গা, সহর্ষা, সমস্তিপুর এবং গয়ায় সিনিয়র ডেপুটি কালেক্টর ও মহকুমা কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালে সমস্তিপুরের এসডিএম থাকার পর তাঁকে পাটনায় বদলি করা হয় এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে তিনি পাটনায় এডিএম (সাপ্লাই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী কুমারী সুইটি ২০১৩ সালে বিহার রেজিস্ট্রেশন সার্ভিসে যোগ দেন এবং বর্তমানে দানাপুরের সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সরকারি উচ্চপদে থাকায় তাঁদের এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছে ভিজিল্যান্স।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ভিজিল্যান্স ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এই দম্পতির বিরুদ্ধে ১১৩/২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ সম্পদের সন্ধান মেলে, যা তাঁদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালতের তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে পাটনা ও বেগুসরাইয়ের বিভিন্ন ঠিকানায় একযোগে হানা দেন তদন্তকারীরা। পাটনার রূপাসপুরের কাশ্যপ গ্রিন সিটির ফ্ল্যাট এবং বেগুসরাইয়ের বাড়ি থেকে এই নগদ অর্থ ও দলিলপত্র উদ্ধার হয়। বর্তমানে জব্দ করা নগদ টাকা, গয়না এবং সম্পত্তিগুলোর সমস্ত বৈধ কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।