রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হার্ট অ্যাটাক রুখতে জাদুকরি কাজ করে এই খাবারগুলি, আজই পাতে রাখুন!

বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে হৃদরোগ সর্বদাই শীর্ষে অবস্থান করছে। ফলে বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করার মাধ্যমে হার্ট ফেইলিউরের মতো মারাত্মক সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার হার্ট ফেইলিউর এবং হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমাতে দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
শরীরের অভ্যন্তরীণ ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়বিক সংকেত সঠিকভাবে আদান-প্রদান করা, পেশির সংকোচন-প্রসারণে সহায়তা করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে পটাশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই চিকিৎসকরা খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামযুক্ত পুষ্টিকর খাবার রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
দৈনন্দিন ডায়েটে কোন খাবারগুলি রাখা জরুরি?
১. কলা: পটাশিয়ামের অন্যতম সেরা উৎস হলো কলা। একটি মাঝারি সাইজের কলায় প্রায় ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের শক্তির জোগান দেওয়ার পাশাপাশি হার্টকে সুস্থ রাখে।
২. মিষ্টি আলু: সাধারণ আলুর চেয়ে মিষ্টি আলুতে পটাশিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফাইবার এবং ভিটামিন এ-তে ভরপুর এই খাবারটি হৃদযন্ত্রের জন্য একটি আদর্শ ‘সুপারফুড’।
৩. পালং শাক: সবুজ এই শাকটিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। এক কাপ রান্না করা পালং শাকে প্রায় ৩১২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন পদে খাওয়া যায়।
৪. অ্যাভোকাডো: স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও পটাশিয়ামের এক চমৎকার ভাণ্ডার হলো অ্যাভোকাডো। একটি গোটা অ্যাভোকাডোতে প্রায় ১০০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে।
৫. ডাবের জল ও দই: ডাবের জল শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে। অন্যদিকে, এক কাপ সাধারণ দইয়ে প্রায় ৫৭৯ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ও প্রোবায়োটিক থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী হলেও এর অতিরিক্ত গ্রহণ কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দৈনিক ৩,৪০০ মিলিগ্রাম এবং মহিলাদের ২৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই খাদ্যাভ্যাসে কোনো বড় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।