“সপ্তাহে ২০ হাজার রোবট তৈরির লক্ষ্য!”-মাঝপথেই কোন গোপন সমস্যায় টেসলা?

মানুষের মতো দেখতে এবং কাজ করতে সক্ষম রোবট তৈরির দৌড়ে রীতিমতো ঝড় তুলেছে ইলন মাস্কের সংস্থা টেসলা। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়েই বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি প্রযুক্তি বিষয়ক গণমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, অপটিমাস (Optimus) রোবটের জটিল গঠন এবং বিশেষ করে মানুষের হাতের আদলে নিখুঁত হাত তৈরির প্রক্রিয়াটিই এখন উৎপাদনের গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যেখানে সপ্তাহে মাত্র কয়েক ডজন অপটিমাস রোবট তৈরি হচ্ছিল, তা বাড়িয়ে এখন সপ্তাহে কয়েক শতে পৌঁছেছে টেসলা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার রোবট তৈরির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংস্থাটি। এমনকি পরবর্তীতে এই উৎপাদন সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতি সপ্তাহে ২০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এলন মাস্কের। কিন্তু সাপ্লাই চেন বা সরবরাহকারীদের সীমাবদ্ধতা, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির ত্রুটি এবং রোবটের হাত সংযোজনের কঠিন মারপ্যাচে উৎপাদনের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ফ্রিমন্ট কারখানায় চলছে নতুন সংস্করণ

বর্তমানে আমেরিকার ফ্রিমন্ট কারখানায় তৈরি হচ্ছে অপটিমাসের তৃতীয় সংস্করণ। আগের মডেলগুলির তুলনায় এই সংস্করণে আনা হয়েছে একাধিক পরিবর্তন। এর মধ্যে রয়েছে আরও হালকা কাঠামো, উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা এবং অপেক্ষাকৃত বেশি মানবসদৃশ নকশা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোবটটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) মডিউলকে প্রশিক্ষিত করতে ৫ লক্ষ ঘণ্টারও বেশি বাস্তব পরিবেশের ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এখনো এটি সাধারণ কাজের জন্য পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে না। আপাতত টেসলার নিজস্ব কারখানা এবং পরীক্ষামূলক এলাকাগুলিতে নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য প্রোগ্রাম করা অবস্থাতেই এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিক্রির আগে সরাসরি বাজারে আসছে না অপটিমাস

উৎপাদনের এই জটিলতার কারণে অপটিমাসের বর্তমান সংস্করণকে এখনই চূড়ান্ত ভোক্তা সংস্করণ বা কমার্শিয়াল প্রোডাক্ট হিসেবে বাজারে ছাড়তে নারাজ টেসলা। কারণ, রোবটটির স্থায়িত্ব এবং যান্ত্রিক সক্ষমতায় আরও অনেক উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করার পরিবর্তে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে এই রোবটগুলি ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

যে সমস্ত গুদাম বা শিল্পকারখানায় টেসলার নিজস্ব কারখানার মতো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ রয়েছে, মূলত সেই জায়গাগুলিকেই বেছে নেওয়া হবে। এর ফলে প্রয়োজনে রোবটগুলি কারখানায় ফিরিয়ে নিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি সংশোধন করা সহজ হবে। পাশাপাশি, বাস্তব কর্মপরিবেশ থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যক্ষমতা আরও উন্নত করার সুযোগও হাতছাড়া করতে চাইছে না সংস্থাটি।

সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইলন মাস্ক অপটিমাসকে টেসলার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখছেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু এগোলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই হিউম্যানয়েড রোবটের বাণিজ্যিক বিক্রি শুরু হতে পারে। তবে সেই বহুকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ছুঁতে গেলে মানুষের মতো জটিল হাত নিখুঁতভাবে তৈরি করার চ্যালেঞ্জটি টেসলাকে কীভাবে পার করতে হয়, এখন সেটাই দেখার।