হাতের মুঠোয় জীবন-মৃত্যু! নদীর জল বাড়তেই পরিবারকে বাঁচাতে যা ঘটল কানপুরে

পাণ্ডু নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় কানপুরের একাধিক জনবহুল এলাকায় বন্যার জল ঢুকে পড়েছে। এর জেরে পিপাউরি গ্রামের বানপুরওয়া মাজরায় চরম সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘরের ভেতরে জল ঢুকে পড়ায় একটি পরিবার সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ওই পরিবারে একজন গর্ভবতী মহিলা এবং তাঁর বয়স্ক বাবা-মা আটকা পড়ায় বড় ধরণের বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে প্রশাসনের তৎপরতা এবং এনডিআরএফ-এর সাহসিকতায় শেষ পর্যন্ত বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল পরিবারটি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাণ্ডু নদীর জল দ্রুত জনবসতির দিকে ধেয়ে আসায় কৌশল গৌতমের পরিবার তাঁদের বাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। বাড়ির চারপাশে জল জমে যাওয়ায় বাইরে বের হওয়ার সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের প্রধান উদ্বেগ ছিল গর্ভাবস্থায় থাকা তাঁর স্ত্রী সুমন গুপ্তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এছাড়া ঘরে বয়স্ক বাবা-মা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল।
কোনো উপায় না পেয়ে চরম আতঙ্কের মুহূর্তে কৌশল গৌতম সরাসরি প্রশাসনের হেল্পলাইন নম্বর ১০৭০-এ ফোন করে সাহায্য চান। তিনি জানান, নদীর জল যেভাবে বাড়ছে, তাতে তাঁদের বাড়ি ছেড়ে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তৎপরতা শুরু করে। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দ্রুত সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়।
হেল্পলাইনে ফোন পাওয়ার মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে এনডিআরএফ-এর একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালিয়ে দলটি ওই বাড়ি থেকে গর্ভবতী মহিলা ও বয়স্ক সদস্যসহ পরিবারের সকলকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসে। এনডিআরএফ-এর এই দ্রুত পদক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পরিবারটি। সদর তহসিলদার বিনয় কুমার দ্বিবেদী জানিয়েছেন, প্রশাসনের নিখুঁত পরিকল্পনা ও উদ্ধারকারী দলের তৎপরতার কারণেই সমস্ত সদস্যকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।