তলিয়ে গেল থাইল্যান্ডের রাজধানী! ব্যাঙ্ককের ৫০টি জেলাতেই জরুরি অবস্থা জারি, জলমগ্ন রাস্তায় ভাসছে গাড়ি

রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি এবং তীব্র আকস্মিক বন্যায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। লাগাতার ভারী বর্ষণে শহরের ৫০টি জেলাকেই আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ ও জরুরি এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কোথাও কোথাও ৩০০ থেকে ৩২০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এক মাসের স্বাভাবিক গড়ের প্রায় সমান। এই প্রলয়ংকরী বন্যায় ব্যাংককের প্রায় ৩ লক্ষ ২৯ হাজার পরিবার অর্থাৎ প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাট ক্রাবাং, ব্যাং কপি, খান না ইয়াও, সাফান সুং, সুয়ান লুয়াং এবং লাক সি-এর মতো নিচু এলাকাগুলি। এর মধ্যে শুধু লাট ক্রাবাংয়েই প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চরম দুর্দশায় পড়েছেন। জলমগ্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলি থেকে প্রায় ৫,৯০০ জনকে উদ্ধার করে ২৩৪টি ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রায় ১,৫০০ জন শয্যাশায়ী রোগীকে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান খালগুলির জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে চলায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ড্রেনেজ ও পাম্পিং স্টেশনগুলি।

জলবন্দি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকক এবং পার্শ্ববর্তী তিন প্রদেশে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রোপলিটন প্রশাসনের আওতাধীন সমস্ত স্কুল। রামখামহেং রোড ও শ্রীনাকরিন রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কিচেন ও নৌকার মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই দেশজোড়া দুর্যোগে থাইল্যান্ডের ৪১টি প্রদেশে ৫ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮ জন। দেশজুড়ে মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন থাই বাত ছাড়িয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১.৫ মিটার উঁচুতে নরম মাটির ওপর অবস্থিত হওয়ায় ব্যাংকক সবসময়ই জলমগ্ন হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবে পুরোপুরি জলমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে এই মেগাসিটির আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।