৯ লক্ষ কোটি উধাও! সপ্তাহের শুরুতেই শেয়ার বাজারে ভয়াবহ ধস কেন?

সপ্তাহের প্রথম দিনেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল দেশের শেয়ার বাজার। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত, অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির রেকর্ড পতন—সব মিলিয়ে সোমবার এক ভয়াবহ ধসের সাক্ষী থাকল দালাল স্ট্রিট। বাজার বন্ধ হওয়ার সময় বিনিয়োগকারীদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৯ লক্ষ কোটি টাকা।

সূচকের বেহাল দশা

এ দিন লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণ পরেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকার লোকসান হয়। দিনের শেষ পর্যন্ত বিক্রির চাপ বজায় থাকায় এই ক্ষতি বেড়ে ৯ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

  • সেনসেক্স: ৩০ শেয়ারের বিএসই সেনসেক্স ১.৫২ শতাংশ বা ১,১২৪.০২ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৭২,৭৭১.৭২ পয়েন্টে।

  • নিফটি: ৫০ শেয়ারের নিফটি ১.৫৬ শতাংশ বা ৩৬০.২৫ পয়েন্ট পতনের পর বন্ধ হয়েছে ২২,৭৮০.২৫ পয়েন্টে।

  • বাজার মূলধন: বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মোট বাজার মূলধন কমে প্রায় ৪৭৩ লক্ষ কোটি টাকায় ঠেকেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, পাওয়ারগ্রিড, আদানি পোর্টস, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের মতো হেভিওয়েট শেয়ারগুলি। তবে এর মধ্যেও ডঃ রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ এবং ইনফোসিসের কিছু শেয়ার সামান্য লাভের মুখ দেখেছে।

ধসের নেপথ্যে ৫ প্রধান কারণ

১. পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাত:

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব থামার কোনো লক্ষণ নেই। সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পিছু হটবেন না।

২. হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম:

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর জেরে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। হরমুজ প্রণালী অচিরেই না খুললে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি:

দেশীয় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII)। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবারের শেষ সেশনেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৩,৬৯৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত মোট শেয়ার প্রত্যাহারের পরিমাণ প্রায় ২৫,৬৮২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

৪. ভারতীয় মুদ্রার রেকর্ড দুর্বলতা:

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির পতন অব্যাহত রয়েছে। ডলারের সাপেক্ষে এ দিন রুপির দর আরও কমে ৯৬-এর নিচে নেমে গেছে।

৫. মার্কিন বন্ডের ফলনে ঊর্ধ্বগতি:

এ দিন মার্কিন ১০-মেয়াদী বন্ডের ইল্ড বা আয় ৫.২ শতাংশের উপরে উঠে গেছে, যা ২০০৪ সালের পর সর্বোচ্চ। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে তুলনামূলক নিরাপদ মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ করছেন, যা দেশীয় বাজারে বিক্রির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।