“সাধুসন্তদের অপমান করলেই সরাসরি জেলে!” নেতাজি ইনডোর থেকে কড়া হুংকার শুভেন্দু অধিকারীর!

সাধুসন্তদের অপমান করলে আর কাউকে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশাল গীতাপাঠের অনুষ্ঠান থেকে স্পষ্ট ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ সাধুসন্তদের অপমান করার দুঃসাহস দেখালে তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে তিনি জোরালো কণ্ঠে ঘোষণা করেন, রাজ্যে এখন ‘টিকা, শিখা আর ধুতি-তুলসীর সরকার’ চলছে, তাই সনাতনীরা সম্পূর্ণ নির্ভয়ে নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারবেন।
রবিবার বাঙুর জাগরণ মঞ্চ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এবং সনাতন সংস্কৃতি সংসদের যৌথ উদ্যোগে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের একটি ঐতিহাসিক আসর বসে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ সনাতনী এবং ভারতমাতার সন্তান হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন।
এই অনুষ্ঠানে স্বামী জ্ঞানানন্দ মহারাজ, রামচন্দ্র দাস, কার্তিক মহারাজ, নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী, পুরীধামের দৈতাপতি ভবানীপ্রসাদ মহারাজ সহ দেশের বহু বিশিষ্ট সাধুসন্ত এবং বাঙুর জাগরণ মঞ্চের সভাপতি বৈজনাথ মিত্তল উপস্থিত ছিলেন।
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানোর তীব্র নিন্দা
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে সাম্প্রতিককালে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন শুভেন্দু। কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই ঘটনা ঘটিয়েছিল একদল কমিউনিস্ট এবং জামাতিরা। তাঁদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে আমার সরকার। এখন বাংলায় যে সরকার আছে, সেই সরকার সাধুসন্ত, মহন্ত ও মহারাজদের অপমানকারীকে ছাড়বে না, সোজা জেলে ঢুকিয়ে দেবে।”
নির্ভয়ে ধর্মপালনের বার্তা
সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী অভয় দিয়ে বলেন, “এখন মন খুলে গীতা পাঠ করুন, মন খুলে গীতা বিতরণ করুন, হনুমান চালিসা পাঠ করুন, শাঁখ বাজান, শিঙা বাজান, মৃদঙ্গ বাজান, খঞ্জনি বাজান, হরে কৃষ্ণ মন্ত্র বলুন— বিন্দুমাত্র ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আবহাওয়াও বদলে গিয়েছে, সময়ও বদলে গিয়েছে। এখন রাজ্যে টিকা, শিখা, ধুতি, তুলসীর সরকার আছে এবং গো-মাতাকে রক্ষা করার সরকার রয়েছে।”
আগামী দিনে একাধিক বড় ধর্মীয় কর্মসূচির ঘোষণা
এদিনের অনুষ্ঠান থেকেই আগামী দিনে রাজ্যে বেশ কিছু সুবৃহৎ আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় কর্মসূচির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান:
আগামী ২৯ ডিসেম্বর ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে একসঙ্গে ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের বিশাল আসর বসবে। ঐতিহাসিক ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবতের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের পর রামভদ্রাচার্যের নেতৃত্বে ব্রিগেডে আরও এক বিশাল ধর্মসভার আয়োজন করা হবে।
এছাড়াও, দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিনে রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ রাখা এবং পুজোর সময়ে ডিজে বাজানোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। কেবল রাজ্যেই নয়, ভিনরাজ্যেও বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে কুরুক্ষেত্রের আসন্ন গীতা মহোৎসবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজস্ব প্যাভিলিয়ন তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে এদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।