‘এক টুকরো বাঁশ আর আঠা দিয়েই বিশ্বজয়!’ চন্দননগরের শিল্পীর তৈরি রেল ইঞ্জিন এবার সোজা বিদেশে

সাধারণ কিছু বাঁশের চাঁচালি, কাটারি, ছুরি আর সামান্য আঠা—এই কটি উপকরণের জাদুতে জীবন্ত হয়ে ওঠে একের পর এক ঐতিহাসিক রেল ইঞ্জিন। কোনো লোহা বা ধাতু ছাড়াই সম্পূর্ণ বাঁশ দিয়ে নিখুঁত ডিজেল লোকোমোটিভ মডেল বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হুগলির চন্দননগরের হস্তশিল্পী গণেশ ভট্টাচার্য। জাতীয় স্তরের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার তাঁর এই অবিশ্বাস্য শিল্পকর্ম গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে পাড়ি দিচ্ছে। আগামী মাসেই নেপালের জাতীয় রেল মিউজিয়ামে স্থায়ীভাবে স্থান পেতে চলেছে তাঁর হাতের তৈরি বাঁশের রেল ইঞ্জিন।

রেকর্ড বুকে নাম ও বিশ্বজয়ের প্রস্তুতি: ইতিমধ্যেই শিল্পীর এই অনন্য সৃষ্টি জায়গা করে নিয়েছে ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ এবং ‘এশিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ। ডব্লিউডিপি-ফোর (WDP-4) মডেলের সবথেকে ছোট এই হস্তশিল্প তৈরির জন্য আবেদন করার মাত্র ১৮ দিনের মাথায় স্বীকৃতি মিলেছিল। শুধু তাই নয়, গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পাতায় নাম তোলার জন্যও আবেদন করেছেন তিনি। ব্রিটিশ আমলের বাষ্পীয় ইঞ্জিন থেকে শুরু করে আধুনিক হাইড্রোজেন ট্রেন পর্যন্ত—প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি রেল ইঞ্জিনের মডেল তৈরি করেছেন এই শিল্পী।

বিদেশের মাটিতে বাংলার শিল্প সংস্কৃতির জয়যাত্রা: প্রায় বাইশ বছর ধরে বাঁশ দিয়ে কাপ, ট্রে, ফুলদানি থেকে শুরু করে ভিনটেজ গাড়ি, ট্রাম এবং বিভিন্ন স্থাপত্য তৈরি করে আসছেন গণেশ। তাঁর তৈরি একটি বাঁশের রেল ইঞ্জিন ইতিমধ্যেই দিল্লির ন্যাশনাল রেল মিউজিয়ামে শিক্ষামূলক প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে। শুধু নেপালই নয়, কেনিয়া ও নামিবিয়া থেকেও তাঁর কাজের কদর এসেছে। সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে আফ্রিকার এই দেশগুলির রেল মিউজিয়ামেও শোভা পাবে বাংলার শিল্পীর তৈরি ভারতীয় রেলের মডেল। অর্থ উপার্জন নয়, বরং দেশের শিল্পকর্মকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর একমাত্র ব্রত বলে জানিয়েছেন এই গুণী শিল্পী।