‘কেরলে হলে ভালো, বাংলায় হলে তেতো কেন?’ SIR বিতর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধোনা করে কোন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী?

রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তরজা অব্যাহত। সম্প্রতি SIR এবং কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের লাগাতার সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করা এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার চালানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, ভোটবাক্সে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল কংগ্রেস এখন অযথা কমিশনেব ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

SIR এবং নির্বাচন কমিশনের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে: শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, SIR বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রক্রিয়াটি এককভাবে কোনো ব্যক্তির বা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্ত ছিল না। কমিশনের সাম্প্রতিক ছবি ও নথির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনজন নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মতিক্রমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অথচ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিষয়টিকে অন্য রূপ দিচ্ছে।

২৭ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বড় দাবি: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে চলা বিতর্কের জবাবে শুভেন্দু অধিকারী এক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরে বলেন যে, এই ২৭ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার পেছনে কমিশন বা বিজেপির কোনো হাত নেই। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের করা মামলার জেরেই জুডিশিয়াল অফিসাররা এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যা হয়েছে, তার দায় অযথা কমিশনের ওপর চাপানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএম সম্পর্ক নিয়ে তোপ: সদ্য শ্রীরামপুরের একটি সভা থেকে ওঠা ‘আজাদি’ স্লোগান এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, কেরলে এক নীতি আর বাংলায় অন্য নীতি কেন? কেরলে SIR হলে যদি তা সঠিক বলে মনে হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গে তা নিয়ে আপত্তি তোলার কোনো অর্থ হয় না। পাশাপাশি, অতীতে ৩৪ বছরের সিপিএম জমানার অত্যাচার এবং বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বাম ও তৃণমূলের গোপন বোঝাপড়ার প্রসঙ্গও তীব্র ভাষায় তুলে ধরেন তিনি।