গর্ভবতী মহিলাকে বেধড়ক মারধর, পরে জীবন্ত পুড়িয়ে খুন! ১১ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৪ জনকে পাকড়াও করল পুলিশ

অপরাধ ঢাকার শত চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হল না শেষ পর্যন্ত। ধুলে-শোলাপুর জাতীয় সড়কের পাহাড়ের খাঁজ থেকে এক গর্ভবতী মহিলার আধপোড়া দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। একটানা ১১ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে ঘেঁটে এই অন্ধকারের রহস্য ভেদ করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মহিলার নাম পিঙ্কি হনুমন্ত কাটকা (৩১)। তিনি গর্ভবতী অবস্থাতেই একটি কালচারাল আর্ট সেন্টারে কাজ করতেন। কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ কোনো এক অশান্তির জেরে তাঁর ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। চলে চরম শারীরিক নির্যাতন ও বেধড়ক মারধর। মারধরের চোটে পিঙ্কি অচৈতন্য হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাঁকে মৃত বলে ধরে নেয়। এরপরই অপরাধের সমস্ত প্রমাণ চিরতরে মিটিয়ে ফেলার জন্য এক রক্তহিম করা ছক কষে তারা।
২৭৫ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ছক
অচৈতন্য অবস্থায় পিঙ্কিকে একটি গাড়িতে তোলে অভিযুক্তরা। এরপর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দূরে ধুলে জেলার এক নির্জন পাহাড়ি এলাকায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শরীরের ওপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জীবন্ত অবস্থায় তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে নাকি মৃত্যুর পর দেহ লোপাট করতে এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের বড় সাফল্য
ঘটনার তদন্তে নেমে স্থানীয় থানার পুলিশ হাইওয়ে ও আশপাশের এলাকার দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেই ফুটেজ তন্ন তন্ন করে খুনিদের ব্যবহৃত গাড়ি ও গতিবিধি ট্রেস করেন তদন্তকারীরা। এর ভিত্তিতেই মূল চার অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় আরও দু’জন অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে একাধিক বিশেষ টিম বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। খুব শীঘ্রই বাকিদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নারকীয় এই ঘটনার পর দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছে স্থানীয় মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ।