ভবিষ্যত নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা! দল ছেড়ে কোন রাজনৈতিক শিবিরে নাম লেখাতে মরিয়া মালদার তৃণমূল নেতারা?

রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পটপরিবর্তনের জেরে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরের কোন্দল এবং নির্বাচন কমিশনের তালিকায় প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া জট মালদা জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে শুরু করেছে। আগামী ৮ অক্টোবর মানিকচকে শুভেন্দু অধিকারীর সভামঞ্চকে কেন্দ্র করে এখন জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, মালদার বহু ‘তৎকালীন’ তৃণমূল নেতা-নেত্রী ও জনপ্রতিনিধি দল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখাতে পারেন।

তৃণমূল শিবিরে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা: বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। তৃণমূলের একাধিক কমিটি ভেঙে যাওয়ার ফলে কর্মী ও নেতারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালদার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার দাবি, দলের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে সুদিন ফেরানো কঠিন। এছাড়া যাঁরা পঞ্চায়েত বা পুরবোর্ডের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাঁদের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফলস্বরূপ, রাজনীতিতে টিকে থাকতে অনেকেই অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন। এক্ষেত্রে তাঁদের প্রথম পছন্দ বিজেপি হলেও কংগ্রেসের রাস্তাও খোলা রাখছেন কেউ কেউ।

পদ্ম শিবিরের অবস্থান ও আগামী ৮ অক্টোবরের নজর: তৃণমূল নেতাদের একাংশের দাবি, তাঁরা ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বিজেপিতে যোগদানের জন্য জোরালো আবেদন জানিয়েছেন। তবে এবিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, জেলাস্তরে এধরনের কোনো আবেদন জমা পড়েনি এবং বিষয়টি পুরোপুরি রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সব মিলিয়ে, আগামী ৮ অক্টোবর শুভেন্দু অধিকারীর মালদা সফর এবং তার সভামঞ্চ থেকে বড় কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।