‘পুজোর আগেই পকেটে ঢুকছে মোটা টাকা!’ বকেয়া ডিএ মেটাতে নবান্নের বড় পদক্ষেপে কি কাটল দীর্ঘদিনের জট?

দুর্গাপুজোর আনন্দের আগে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড়সড় সুখবর। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত জট কাটাতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নামল রাজ্য সরকার। নবান্নের অর্থ দফতর থেকে সম্প্রতি একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।

কাদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা? যে সমস্ত সরকারি কর্মীর বেতন ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে এইচআরএমএস (HRMS) মডিউলে ওঠেনি, তাঁদের জন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমান কর্মরত কর্মী ছাড়াও প্রাক্তনী, ডেপুটেশনে থাকা কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় চলে আসছেন।

নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?

  • পোর্টালে নতুন মেনু: এইচআরএমএস পোর্টালে ‘পে ডিটেইলস এন্ট্রি ফর এরিয়ার ডিএ’ (Pay Details Entry for Arrear DA) নামে একটি নতুন মেনু যুক্ত করা হয়েছে, যা ডিডিও-রা (DDO) ব্যবহার করবেন।

  • তথ্য আপলোড ও যাচাই: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেসিক পে বা মূল বেতনের সমস্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড করতে হবে। সার্ভিস বুক এবং অন্যান্য সরকারি নথির ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই তথ্য যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • আলাদা বিল প্রস্তুতি: সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই হয়ে যাওয়ার পর সিস্টেম নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়া ডিএ-র হিসেব কষে ফেলবে। ২০০৮-১৫ এবং পরবর্তী সময়ের জন্য আলাদাভাবে দুটি বিল তৈরি করা হবে।

সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমের আগে সরকারের এই পদক্ষেপে বহুদিনের বকেয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় অগ্রগতি হল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।