‘রড-ডিমের পর এবার সোজা রিভলভার ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা!’ পরপর দু’দিনে বেলেঘাটায় মারাত্মক বিপদের মুখে কুণাল ঘোষ

শনিবার উত্তরপাড়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার ফের জোরালো হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। এবার ঘটনাস্থল খাস কলকাতার বেলেঘাটা। রবিবার সকালে নিজের বিধানসভা এলাকাতেই প্রকাশ্য রাস্তায় বাইকবাহিনী তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে এবং বেধড়ক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। কুণালের দাবি, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল এবং হামলাকারীদের কয়েক জনের হাতে রিভলভার ও হাতুড়ি পর্যন্ত ছিল।

ঠিক কী ঘটেছিল বেলেঘাটায়? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে যাওয়ার পথে ফুলবাগান এলাকার কাছাকাছি আসতেই ১৫ থেকে ২০টি বাইকে একদল যুবক তাঁর গাড়িটির গতিরোধ করে। আচমকাই গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁকে জোর করে টেনে বাইরে বের করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং বড়োসর বিপদের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীরা শেষ পর্যন্ত রিভলভার বের করতে বাধ্য হন। কোনোমতে চালক গাড়িটি ঘুরিয়ে সোজা নারকেলডাঙা থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। ঘটনার পরই থানার ভেতর থেকে কুণাল ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান যে, তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এই ঘটনার পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ ও কুণালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: উল্লেখ্য, এর আগে শনিবারই শ্রীরামপুরে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ার শখেরবাজার এলাকায় কুণালের গাড়িতে ইট, পাথর ও ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। পরপর দু’দিনে দুই জায়গায় এমন মারাত্মক হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করে উলটো তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই দায়ী করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।