আরএসএস অনুগামী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে রণক্ষেত্র এসআরএফটিআই! গেট ভাঙার চেষ্টা ক্ষিপ্ত জনতার, চরম উত্তেজনা

ক্রমশ আরও ভয়াবহ ও জটিল হয়ে উঠছে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর ক্যাম্পাস চত্বরের পরিস্থিতি। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (ABGP)-এর একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রী ও আয়োজকদের মধ্যে যে বচসার সূত্রপাত হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত বড়োসড় সংঘর্ষ এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে রূপ নিয়েছে। সন্ধে নামতেই এসআরএফটিআই চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

অশান্তির সূত্রপাত যেভাবে: জানা গিয়েছে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (এবিজিপি)—যা মূলত ক্রেতা সুরক্ষা ও গ্রাহকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সর্বভারতীয় অলাভজনক সংগঠন—নির্দিষ্ট ভাড়ার মাধ্যমেই এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়াম বুক করে একটি কর্মশালার আয়োজন করেছিল। তবে অনুষ্ঠান চলাকালীনই একদল পড়ুয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে তীব্র আপত্তি জানান এবং ব্যানার-ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলেন। পড়ুয়াদের অভিযোগ ছিল, আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত কোনো সংস্থাকে ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনোভাবেই ঢুকতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে আয়োজকদের দাবি, এবিজিপি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং সচেতনতামূলক একটি সংগঠন। এই মতবিরোধ থেকেই উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং মারধরের অভিযোগও সামনে আসে।

ক্যাম্পাসে ইটবৃষ্টি ও পুলিশের হানা: পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও অতিরিক্ত সিপি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রথমে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ পুলিশকে মূল গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার অনুমতি না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর বাধ্য হয়েই ডিসি (ইস্ট)-এর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী পাঁচিল টপকে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।

বাইরে তখন ক্ষিপ্ত জনতা ও বহিরাগতদের ভিড় উপচে পড়ছে এবং মূল গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চলছে। ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে ছাত্রছাত্রীদের ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়ার ফলে উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। আয়োজকদের দাবি, তাদের বেশ কয়েকজন সদস্য এখনও ক্যাম্পাসের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।