মায়ের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চরম রূপ! সারারাত ফুর্তি করতে বাইরে মত্ত অভিভাবক, ঘরের কোণে বন্দি অবুঝ শিশু

রাজারহাট এলাকা আবারও এক অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল, যা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের একরত্তি শিশুকন্যাকে বাড়িতে তালাবন্ধ করে রেখে সারারাত বাইরে আমোদপ্রমোদে মত্ত থাকার অভিযোগ উঠল এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে শিশুর অন্তহীন কান্নার আওয়াজ যখন প্রতিবেশীদের কানে পৌঁছায়, তখন পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন প্রতিবেশীরা দ্রুত একত্রিত হয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করার উদ্যোগ নেন এবং এই লোমহর্ষক ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করে দেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারির কাছে সরাসরি ভিডিও মারফত এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, রাজারহাটের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। প্রতিদিনের মতো রাত নামার পর যখন চারপাশ শান্ত হয়ে আসে, তখনই একটি ফ্ল্যাট থেকে একরত্তি শিশুর একটানা কান্নার শব্দ শুনতে পান আশেপাশের মানুষজন। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিশুর কান্না না থামায় প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তারা কৌতূহলী হয়ে ওই ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে দেখেন যে বাইরে থেকে দরজায় তালা ঝুলছে। ঘরের ভেতরে তখন অবুঝ শিশুটি একা ভয়ে ও ক্ষুধায় কাঁপছে এবং তার কান্না প্রতিবেশীদের বুক চিরে ফেলছিল। সারারাত ধরে শিশুটির এই মর্মান্তিক কান্না কোনোভাবেই মানতে পারেননি স্থানীয়রা। দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিভাবক কোথায় গেলেন, কেন এভাবে একটি শিশুকে অসহায় অবস্থায় ঘরে বন্দি করে রাখা হলো—এই প্রশ্নগুলোই তখন ঘুরপাক খাচ্ছিল সকলের মনে।

সকাল হতে না হতেই প্রতিবেশীরা আর চুপ করে থাকতে পারেননি। তারা অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসনের নজর আকর্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে আপলোড করা হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কীভাবে অবুঝ শিশুটিকে একা ঘরে ফেলে রেখে বাইরে আনন্দ ফুর্তিতে মত্ত ছিলেন দায়িত্বহীন অভিভাবক। ভিডিওর কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন এবং অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রখ্যাত আইনজীবী তথা বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারির কাছে সরাসরি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। তারা অনুরোধ করেছেন, যেন এই ঘটনার গভীরে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হয় এবং ওই শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই ধরনের ঘটনা সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা এবং অভিভাবকদের মানসিকতা নিয়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। কীভাবে একজন মা বা বাবা নিজের রক্তের টুকরোকে এভাবে বিপদের মুখে ফেলে বাইরে ফুর্তি করতে যেতে পারেন, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। শিশু অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সচেতন নাগরিক সমাজও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শিশুটির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বর্তমানে কেমন আছে, তা নিয়েও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। রাজারহাটের এই ঘটনা শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমগ্র রাজ্যজুড়ে এক গভীর নৈতিক পতন এবং শিশু সুরক্ষার অভাবের ছবি ফুটিয়ে তুলেছে। যতদিন না দোষীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাচ্ছে, ততদিন এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।