এসআইআর নিয়ে মমতাকে তুলোধনা শুভেন্দুর! কেরল আর বাংলার নীতি নিয়ে তুললেন বড় প্রশ্ন

সল্টলেকের রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন বা নির্বাচন সংক্রান্ত এসআইআর (SIR) ইস্যু নিয়ে শাসক শিবির ও বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি শ্রীরামপুরের এক জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে এসআইআর ইস্যুতে কড়া ভাষায় তোপ দেগেছিলেন। তারই পাল্টা জবাব দিয়ে শুভেন্দু কটাক্ষের সুরে বলেন, এই নীতি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে শাসক দলের কাছে ‘তেতো’ হলেও কেরালায় তা বেশ ‘মিষ্টি’ ঠেকে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক প্রেস কনফারেন্সের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সহ অন্য দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনারের যৌথ উপস্থিতি ও ছবিই স্পষ্ট করে দেয় যে এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি কোনো একক ব্যক্তির নয়, বরং তিন সদস্যের কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে তিনি আরও বলেন, কেরালায় কংগ্রেস জিতেছে বলেই সেখানে তারা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে না, অথচ বাংলায় অন্য সুর গাইছে। কংগ্রেস ও সিপিএমের এই দ্বিমুখী নীতি ও রাজনৈতিক দ্বিচারিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়াও এসআইআর প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা ও আইনি লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে বিরোধী দলনেতা জানান, এই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে অতীতে একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু শীর্ষ আদালত তাদের বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ইআরও (ERO)-দের ক্ষমতা খর্ব করেছে। ৬০ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি বিচারীয় আধিকারিকদের মাধ্যমেই করা হয়েছে বলে জানান তিনি। রাজ্য রাজনীতির এই নতুন তরজায় এসআইআর বিতর্ক এখন চরমে উঠেছে।