১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তোলা যাবে PPF-এর টাকা! কিন্তু কীভাবে? জেনে নিন এই অজানা সিক্রেট নিয়ম

ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার অন্যতম জনপ্রিয় ও নিরাপদ মাধ্যম হলো পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF)। দীর্ঘমেয়াদি এই সঞ্চয় প্রকল্পে সাধারণত ১৫ বছরের লক-ইন পিরিয়ড থাকে। ফলে সিংহভাগ মানুষেরই ধারণা, ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পিপিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা একেবারেই অসম্ভব। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্যি নয়।
জরুরি প্রয়োজনে যাতে সাধারণ মানুষের আর্থিক সমস্যা না হয়, তার জন্য সরকারি নিয়মে পিপিএফ থেকেও মেয়াদপূর্তির আগেই আংশিক বা পুরো টাকা তোলার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। কীভাবে এবং কখন পাবেন এই সুবিধা? রইল জরুরি তথ্য।
কখন শুরু হয় আংশিক টাকা তোলার সুবিধা?
নিয়ম অনুযায়ী, পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খোলার ষষ্ঠ আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ সপ্তম আর্থিক বছর থেকে আপনি জমা টাকার কিছুটা অংশ তুলে নিতে পারবেন।
সহজ কথায়, আপনি যদি ২০২০-২১ আর্থিক বছরে প্রথম পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খুলে থাকেন, তবে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছর থেকে আপনি প্রথমবারের জন্য টাকা তোলার আবেদন করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, এক আর্থিক বছরে সর্বোচ্চ ১ বারই কেবল আংশিক টাকা তোলা সম্ভব।
কত টাকা তুলতে পারবেন? (ক্যালকুলেশনের নিয়ম)
পিপিএফ থেকে কতটা টাকা তুলতে পারবেন, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট হিসাব বা নিয়ম রয়েছে। এক্ষেত্রে দুটি ব্যালেন্স বিবেচনা করা হয়:
১. বিগত আর্থিক বছরের শেষে অ্যাকাউন্টে জমা থাকা মোট টাকা। ২. টাকা তোলার আবেদন জানানোর বছর থেকে ঠিক ৪ বছর আগের মোট ব্যালেন্স।
এই দুই অংকের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, তার ৫০ শতাংশ টাকা আপনি তুলতে পারবেন।
সহজ উদাহরণ: ধরুন, গত আর্থিক বছরের শেষে আপনার অ্যাকাউন্টে ছিল ৮ লক্ষ টাকা। আর চার বছর আগে ব্যালেন্স ছিল ৬ লক্ষ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী কম অঙ্কটি অর্থাৎ ৬ লক্ষ টাকা বেস ধরে তার ৫০% বা সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা তোলা যাবে।
১৫ বছর পূর্ণ হলে আপনার কাছে কী কী অপশন থাকে?
১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর অ্যাকাউন্ট হোল্ডার সুদসহ পুরো টাকা তুলে নিতে পারেন। তবে আপনি যদি পুরো টাকা না তুলে সঞ্চয় চালিয়ে যেতে চান, তবে তারও দুটি পথ রয়েছে:
কোনো নতুন টাকা জমা না দিয়েই অ্যাকাউন্ট সচল রাখা এবং জমা টাকার ওপর স্বাভাবিক সুদ পেতে থাকা।
৫ বছরের ব্লকে অ্যাকাউন্টের মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া এবং নিয়মিত সঞ্চয় চালিয়ে যাওয়া।
৫ বছর পরেই পুরো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার বিশেষ শর্ত
জরুরি পরিস্থিতিতে পিপিএফ চালুর ৫ বছর পূর্ণ হলেই পুরো অ্যাকাউন্ট মেয়াদপূর্তির আগেই বন্ধ করার বিশেষ সুযোগ দেয় কেন্দ্র। তবে তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে:
অ্যাকাউন্ট হোল্ডার, জীবনসঙ্গী বা সন্তানের মারাত্মক কোনো রোগের চিকিৎসা।
অ্যাকাউন্ট হোল্ডার বা সন্তানের উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাতে।
অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের এনআরআই (NRI) স্ট্যাটাস হলে।
উল্লেখ্য, মেয়াদের আগে পুরো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে নির্ধারিত অর্জিত সুদের ওপর থেকে ১ শতাংশ হারে সুদের কোপ পড়ে বা জরিমানা কাটা হয়। তবে দুঃখজনকভাবে অ্যাকাউন্ট হোল্ডার মারা গেলে মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না; সম্পূর্ণ টাকা নমিনি বা আইনসম্মত উত্তরাধিকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।