পুজোর পরই বঙ্গে ভোটের দামামা! রাজ্যে হাজির ২১ হাজার ইভিএম, দিনক্ষণ নিয়ে নবান্নে মহা-বৈঠক!

রাজ্যের পুরসভাগুলিতে ঘনিয়ে আসছে ভোটের আবহ। দুর্গাপুজোর আনন্দ মিটতেই রাজ্যজুড়ে পুরভোট সম্পন্ন করতে পুরোদমে ময়দানে নেমে পড়ল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম (EVM)-এর চূড়ান্ত চালান ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে রাজ্যে।
কমিশন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এবার পুরভোটের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শতপ্রতিশত বুথেই ওয়েবকাস্টিংয়ের সুব্যবস্থা রাখার মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২১ হাজার ব্যালট ইউনিট, ১৯ হাজার কন্ট্রোল ইউনিট পৌঁছাল রাজ্যে
ভোটগ্রহণের সবচেয়ে জরুরি পরিকাঠামো অর্থাৎ ইভিএম সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ করা ২১ হাজার ১৮৪টি ব্যালট ইউনিট এবং ১৯ হাজার ৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট রাজে এসে পৌঁছেছে। ইভিএমগুলি স্ট্রং রুমে সংরক্ষণ, কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা (First Level Checking) এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত শুরু করা হচ্ছে।
প্রস্তুতির অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে আজ, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় এক জরুরি ভার্চুয়াল কনফারেন্সে বসছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের (DM) সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে কোন কোন পুরসভায় ভোট?
রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পুরভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রথম দফাতেই বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল পুরসভায় ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। এই তালিকায় রয়েছে:
কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন
বালি, হলদিয়া ও ঝাড়গ্রাম পুরসভা
উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়ি, কার্শিয়ং এবং কালিম্পং পুরসভা
বিধানসভা নির্বাচনের পর বড় শক্তি পরীক্ষা
ছাব্বিশের উত্তপ্ত বিধানসভা নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাজ্যে এত বড় মাপের কোনও স্থানীয় নির্বাচন হতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের রাজনৈতিক জমিন শক্ত করতে এবং সম্মান রক্ষায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই এই লড়াইকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। পুজো মিটতেই দিকে দিকে ভোটের প্রচার জমে উঠবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।