শিক্ষক দাঁড়িয়ে পাশে, শিক্ষকের চেয়ারে বিজেপি নেতা! ভাইরাল ছবি ঘিরে তুমুল তুলকালাম ভাতারে!

পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের একটি বেসরকারি স্কুলে চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্লাসরুমে ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষকের চেয়ারে বসে বক্তব্য রাখছেন বিজেপি নেতা, আর পাশেই হাতজোড় করে বা দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা—সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটি ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হতেই উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহল।

ঠিক কী ঘটেছে ভাতারের স্কুলে?

বুধবার দুপুরে কেন্দ্র সরকারের ‘বিকশিত ভারত ভিশন ২০৪৭’ কর্মসূচি প্রচারের অংশ হিসেবে ভাতারের শুশুনদিঘি হৃষিকেশ পাবলিক স্কুলে পৌঁছন বিজেপির ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের কনভেনর সুব্রত গোস্বামী। সেখানে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলা ও কেন্দ্রের পরিকল্পনা বোঝানোর কর্মসূচির মাঝেই ক্যামেরাবন্দি হয় এই দৃশ্য।

ভিডিওতে (যার সত্যতা আমাদের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি) দেখা যায়, ক্লাসরুমের প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন বিজেপি নেতা। অথচ সেই সময় ক্লাসের শিক্ষকেরা চেয়ার না পেয়ে পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এই ছবি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা।

তোপ বিরোধী শিবিরের

ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোচ্চার হয়েছে বিরোধী দলগুলি। সিপিএম নেতা দীপঙ্কর দে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠনের মধ্যে কীভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঢুকে পড়ল? পড়ুয়াদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দায় কে নেবে? আসলে গোটা শিক্ষাব্যবস্থাতেই এখন দখলদারি চালানোর চক্রান্ত হচ্ছে।”

সমালোচনা বাড়তেই ক্ষমা চাইলেন বিজেপি নেতা

বিষয়টি ঘিরে জলঘোলা হতেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বিজেপি নেতা সুব্রত গোস্বামী। তাঁর দাবি, তিনি ইচ্ছা করে শিক্ষকের আসনে বসেননি।

সুব্রত গোস্বামীর সাফাই, “আমি এই ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণে বিশ্বাসী নই। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আমাকে অতিথি হিসেবে সম্মান জানিয়ে ওই চেয়ারে বসতে অনুরোধ করেছিলেন। আমি প্রথমে শিক্ষকদেরই বসতে বলেছিলাম, কিন্তু ওনাদের জোড়াজোড়িতেই বসতে বাধ্য হই। তবুও যদি এই ঘটনায় কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”

অন্যদিকে, বিজেপির জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছে, শিক্ষকদের পূর্ব অনুমতি নিয়েই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল এবং কাউকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। একটি ছবিকে সামনে রেখে রাজনীতি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলে পদ্ম শিবির। তবে শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য সাধারণ মানুষ ও শিক্ষকসমাজ কীভাবে নিচ্ছেন, তা নিয়ে তরজা থামছেই না।