রেলযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশাল পদক্ষেপ! স্টেশন চত্বরে আচমকা বড় অভিযান উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের!

প্রতিদিন ট্রেনে যাতায়াত করা কোটি কোটি যাত্রীর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বড়সড় অভিযানে নামল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। স্টেশন এবং রেলওয়ে চত্বরে সরবরাহ করা পানীয় জল কতটা নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় নমুনা সংগ্রহ ও ল্যাব টেস্টের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্টেশনে স্টেশনে ল্যাব টেস্ট: কী মিলল পরীক্ষায়?
রেল সূত্রের খবর, যাত্রীদের নিয়মিত ব্যবহারের জায়গা—যেমন ওয়েটিং হল, প্ল্যাটফর্মের জলের ভ্যাট, ওভারহেড ট্যাঙ্ক এবং কল থেকে সরাসরি জলের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর সেগুলির সুশৃঙ্খল ভৌত (Physical), রাসায়নিক (Chemical) এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত (Bacteriological) পরীক্ষা চালানো হচ্ছে ল্যাবরেটরিতে।
সম্প্রতি পরিচালিত এই অভিযানের সময় জলের রাসায়নিক ভারসাম্য বা পিএইচ (pH), ঘোলাটে ভাব (Turbidity), খনিজ উপাদান বা হার্ডনেস, নাইট্রেট, আয়রন, ক্লোরাইড, ফ্লোরাইড এবং জীবাণুমুক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ‘রেসিডুয়াল ফ্রি ক্লোরিন’-এর মাত্রা মেপে দেখা হয়। সম্প্রতি সংগৃহীত নমুনার রিপোর্টে জানা গেছে, স্টেশনগুলিতে সরবরাহ করা জল সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং নির্ধারিত সরকারি মানদণ্ডের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কামাখ্যা ও গুয়াহাটিতে বিশেষ নজরদারি
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন কামাখ্যা এবং গুয়াহাটিতেও এই নিবিড় নজরদারি চালানো হয়। কামাখ্যা স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ভ্যাট নং ৩ এবং ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ভ্যাট নং ২ থেকে সরাসরি পরিশোধিত জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। একইসঙ্গে পরীক্ষা চলেছে গুয়াহাটি স্টেশনেও। দুটি স্টেশনেরই ভৌত-রাসায়নিক ও অণুজীবজনিত পরীক্ষায় জলের গুণমান একদম সঠিক পাওয়া গিয়েছে।
দূর করা হচ্ছে সব ত্রুটি, পরিষ্কার হচ্ছে ট্যাঙ্ক
কেবল জল পরীক্ষাই নয়, ওয়াটার বন (Water-borne) বা পানীবাহিত রোগ ছড়ানো রুখতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে রেল প্রশাসন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে সূত্রে জানানো হয়েছে, সমস্ত স্টেশনের জল সংরক্ষণকারী ওভারহেড ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়াটার কুলার, পাইপলাইন এবং কলগুলির রক্ষণাবেক্ষণেও বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় সামান্যতম অসঙ্গতি ধরা পড়লেও তা দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।