“শুভেন্দুবাবু ভয় পেয়েছেন, তাই আমাকে ফাঁসাচ্ছেন!” আদালতে তোলার মুখে কড়া বিস্ফোরণ নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীর

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই চড়ছে রাজনীতির পারদ। খেজুরি থানায় রুজু হওয়া প্রায় দুই দশক পুরনো একটি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে কাঁথি আদালতে পেশ করার সময় তীব্র রাজনৈতিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি নিজেই। আদালতের বাইরে তাঁকে পুলিশি নিরাপত্তায় নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সরাসরি তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর পিতা শিশির অধিকারীর বিরুদ্ধে।

২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। সম্প্রতি নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে সমর্থনের কথা জানানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে।

এদিন কাঁথি আদালতে ঢোকার মুখে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান বলেন, “প্রায় ১৯-২০ বছরের পুরনো মামলা টেনে এনে আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। যে মামলায় আমাকে ধরা হয়েছে, সেখানে শিশিরবাবু এবং শুভেন্দুবাবু সহ একাধিক বিজেপি নেতার নামও রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ভয় পেয়েছেন বলেই চক্রান্ত করে আমাকে আটকে রাখতে চাইছেন।”

এর আগে হলদিয়া আদালতে পেশ করা হলে বিচারক নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পুরনো মামলাগুলিতে মিলন প্রধানকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে খেজুরির পৃথক মামলার বিষয়ে তাঁকে কাঁথি আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। উপনির্বাচনের মুখে এই গ্রেফতারি কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ একে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে কটাক্ষ করলেও আইনি পথেই বিষয়টি মোকাবিলার ইঙ্গিত মিলছে।