এটাই আসল ভারত! শতাব্দী প্রাচীন সোমনাথ মন্দিরের পাশেই গত ১০০ বছর ধরে শিবের ত্রিশূল বানাচ্ছে এক মুসলিম পরিবার

চারপাশে যখন বিভাজন ও রাজনীতির নানা খবর নিত্যদিনের শিরোনামে উঠে আসে, তখন ভারতের আসল সংস্কৃতি ও গঙ্গার ঐক্যের ছবিটা ঠিক কেমন হতে পারে, তার এক উজ্জ্বল নিদর্শনের দেখা মিলবে রাজস্থানের পালি জেলায়। ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরের ঠিক পাশেই রয়েছে এমন একটি ছোট্ট লোহার কাজের দোকান, যা দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী বা ১০০ বছর ধরে এই দোকানে বংশপরম্পরায় শিবের ত্রিশূল এবং মন্দিরের নানা লোহার সরঞ্জাম তৈরি করে চলেছে একটি মুসলিম পরিবার।

স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই এই পরিবারটি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। দাদু ও বাবার হাত ধরে যে চুল্লিতে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুরু হয়েছিল, আজ ৬০ বছরের আইয়ুব এবং তাঁর পরিবারের সদস্য উসমান ও ইব্রাহিম সেই পারিবারিক ঐতিহ্য সযত্নে টিকিয়ে রেখেছেন। সাধারণ গৃহস্থালির কোদাল, তাওয়া, কড়াই বা চাষবাসের সরঞ্জামের পাশাপাশি এই দোকানে তৈরি হয় হিন্দু ধর্মের অন্যতম পবিত্র প্রতীক শিবের ত্রিশূল এবং মন্দিরের আরতিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাত্র ‘কুপেরা’। প্রতিদিন সোমনাথ মন্দিরের সন্ধ্যার আরতির পবিত্র শব্দের সঙ্গে মিলেমিশে যায় এই দোকানের হাতুড়ি পেটার ছন্দ, যা এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দেয়।

পরিবারের সদস্যদের মতে, প্রজন্ম বদলেছে, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পাল্টেছে, কিন্তু তাঁদের পেশা ও সম্প্রীতির বন্ধন বদলায়নি। এমনকি এই পরিবারের প্রায় ৮০ বছরের পুরনো আদি বাড়ির দেওয়ালে আজও খোদাই করা রয়েছে ‘১৯৪৭’ সাল, যা দেশভাগের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের নীরব সাক্ষী। চার প্রজন্মের এই নিরলস পরিশ্রম ও নিষ্ঠার গল্প প্রমাণ করে যে, মানুষের বিশ্বাস ও কর্মের ঊর্ধ্বে মানবতাই আসল ধর্ম। স্থানীয় মানুষরাও এই মুসলিম কারিগরদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁদের এই দীর্ঘ পথচলাকে কুর্নিশ জানান।