হাতছাড়া জোড়াফুল প্রতীক! ২৮ বছরের চেনা পরিচয় কি চিরতরে হারাতে চলেছেন মমতা? কী বলছে আইন?

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর মাত্র চার মাসের মধ্যে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি তৃণমূল কংগ্রেস। দল ভেঙে তিন টুকরো হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপে হাতছাড়া হয়েছে দলের নাম এবং বহুদিনের চেনা জোড়াফুল প্রতীকও। বর্তমানে দলীয় তহবিল ও রাজনৈতিক পরিচিতি রক্ষার এই লড়াইয়ে প্রশ্ন উঠছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আদৌ তাঁর পুরোনো নাম ও প্রতীক ফিরে পাবেন? আর এর নেপথ্যেই বা কাজ করছে কোন সাংবিধানিক ও আইনি নিয়ম?

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে আঁকা ঘাসফুল বা জোড়াফুল প্রতীক হয়ে উঠেছিল তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক অন্তদ্বন্দ্বে দল বিভক্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, জোড়াফুল প্রতীক ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস—দুটি নাম বা প্রতীকেরই আর প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব নেই। আসন্ন উপনির্বাচনে মমতা শিবিরের নতুন নাম হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের নাম হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক ‘খাম’।

নির্বাচন কমিশন ও আইনি বিধানের লড়াই: ১৯৯৬ সালের নির্বাচনী প্রতীক আইনের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের একাধিক গোষ্ঠী নিজেদের মূল দল বলে দাবি করলে তা নিষ্পত্তির সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক ‘সাদিক আলি বনাম ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এই সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রেখেছিল। আইন অনুযায়ী, কোন দলের সঙ্গে বিধায়ক, সাংসদ বা সাংগঠনিক কাঠামোর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে আদালতেরও। ঘাসফুল প্রতীক ও পুরোনো নাম ফিরে পেতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে শিবসেনা বা ডিএমকে-র ক্ষেত্রেও এমন রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের নজির রয়েছে। এখন সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে বাংলা রাজনীতিতে মমতার আদি পরিচয়ের ভবিষ্যৎ।