ভোরে হঠাৎ চলল সাঁড়াশি গুলি! ৩০ লাখের ইনামি নকশাল প্রধানকে যেভাবে মাটি দিল পুলিশ, কাঁপল বারাণসী

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় সাফল্য। পুলিশের সঙ্গে তীব্র গুলির লড়াইয়ে নিহত হলো ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত নকশাল কমান্ডার ব্রিজেশ গঞ্জু ওরফে গোপাল সিং ভোক্তা। রাজ্য পুলিশ ও এনআইএ মিলিয়ে তার মাথার মোট দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ৩০ লক্ষ টাকা। রবিবার ভোররাতে উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) এবং রামনগর থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে এই মেগা এনকাউন্টারটি ঘটে।

নিহত ব্রিজেশ গঞ্জু মূলত ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলার বাসিন্দা ছিল। সে নিষিদ্ধ নকশাল সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র বিচ্ছন্ন গোষ্ঠী ‘তৃতীয় প্রস্তুত কমিটি’ (TPC)-র শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে বহু বছর ধরে সক্রিয় ছিল।

লঙ্কা ময়দানের কাছে গুলির লড়াই: বাঁচলেন পুলিশ আধিকারিকরা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোরে ব্রিজেশ মোগলসরাইয়ের দিকে রওনা দিয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বারাণসীর রামনগরের লঙ্কা ময়দানের কাছে তার পথ আটকায় এটিএস ও স্পেশাল পুলিশ টিম।

  • হঠাৎ আক্রমণ: পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণ করতে বললে সে সরাসরি জওয়ানদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।

  • পাল্টা জবাব: আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ রক্তক্ষয়ী লড়াই চলার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ব্রিজেশ।

  • হাসপাতালে মৃত্যু: তড়িঘড়ি তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপারেশন চলাকালীন ব্রিজেশের ছোঁড়া গুলি ইউপি এটিএস-এর ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP) বিপিন রাই এবং হেড কনস্টেবল নিতিন কৃষ্ণের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে এসে লাগে। সৌভাগ্যবশত জ্যাকেট থাকায় দু’জনেই অক্ষত রয়েছেন।

ইনামের অঙ্কে ৩০ লক্ষ টাকার মাথার দাম

ঝাড়খণ্ড এবং আশপাশের রাজ্যে একাধিক উগ্রপন্থী হামলা ও তোলাবাজির ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরেই মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল ব্রিজেশ গঞ্জু।

সংস্থাপুরস্কারের পরিমাণ
ঝাড়খণ্ড সরকার₹ ২৫ লক্ষ
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)₹ ৫ লক্ষ
মোট মাথার দাম₹ ৩০ লক্ষ

গোপন আস্তানার খোঁজে তল্লাশি জোরদার

ঘটনাস্তল থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও নকশাল নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। পবিত্র ধাম বারাণসীতে কতদিন ধরে এই নকশাল নেতা আস্তানা গেড়েছিল এবং উত্তরপ্রদেশে তার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। পুরো এলাকায় কম্বিং অপারেশন শুরু করেছে অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড।