‘সেদিন কী ঘটেছিল?’ স্বাস্থ্যেভবনের কমিটির সামনে বিস্ফোরক জবানবন্দি আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মায়ের!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই ফের নতুন করে গতি পেল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের নারকীয় ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলার ফাইল। শনিবার নয়া গঠিত তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়ে ঘটনার দিনের বিস্তারিত বিবরণ সহ গোপন জবানবন্দি দিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। স্বাস্থ্যভবনের এই পৃথক বিভাগীয় তদন্ত শুরু হওয়ায় অবশেষে সুবিচারের আশা দেখছেন পরিবারসহ সমগ্র বাংলা।

জবানবন্দি দেওয়ার পর শনিবার নিজের বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা। তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রত্যক্ষ নির্দেশেই স্বাস্থ্যভবন থেকে এই আলাদা বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জবানবন্দিতে ২০২৪ সালের ৯ আগস্টের ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ তাঁরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কমিটির সামনে তুলে ধরেছেন।

ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ও নতুন আশা:

আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তদন্তে গাফিলতি ছিল এবং বিচারের সমস্ত আশাই ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী এই মামলার ফাইল পুনরায় খোলার নির্দেশ দেন। ঘটনার পর দ্রুত দেহ দাহ করা ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে ইতোমধ্যে খড়দা থানার পুলিশ তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-সহ একাধিক স্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি গাফিলতির অভিযোগে তিনজন শীর্ষ আইপিএস (IPS) অফিসারকেও সাসপেন্ড করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পানিহাটির বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মায়ের অবস্থান:

মেয়ের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার না পেয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন নির্যাতিতার মা। পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে তিনি বর্তমানে এলাকার বিধায়ক। যদিও এদিন তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি, তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেওয়া কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন পরিবারটির সদস্যরা।

উল্লেখ্য, পানিহাটিতে আয়োজিত নির্যাতিতার জন্মদিনের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘোষণা করেছিলেন যে অপরাধী ও ষড়যন্ত্রকারীদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। হাইকোর্টের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরো বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রিপোর্ট পেশ করবে এই বিশেষ কমিটি।