ভোররাত্রে কেঁপে উঠল সৌদি! বিমানবন্দরে আকাশছোঁয়া আগুনের লেলহান শিখা, হুথিদের তাণ্ডবে শোরগোল

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এবার সরাসরি সৌদি আরবের ওপর হামলা চালাল ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। রাজধানী রিয়াদ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর ইয়ানবু—শনিবার ভোররাতে পর পর ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন বর্ষণ করে মেগা আক্রমণ নামিয়ে এনেছে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। আকস্মিক এই হামলায় বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা AFP-র প্রকাশিত ভিডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর কিং খালিদের কাছেই অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তৈল সংস্থা আরামকোর (Aramco) একটি বিশাল তেল ডিপোতে সরাসরি আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে থাকা একটি বিশাল তেলের ট্যাঙ্কারে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। চারদিক ঢেকে যায় গাঢ় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলা ও প্রতিরোধের দাবি:
সৌদি যৌথবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার ভোরবেলা রাজধানী রিয়াদকে নিশানা করে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত সতর্কবার্তাও জারি করা হয়। তবে সৌদির তরফে জানানো হয়েছে, ইয়ানবু, তাইফ, ফারাসান ও বায়েশের মতো জনবসতি এলাকা লক্ষ্য করে চালানো হামলা প্রতিরোধ করা গিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি।
অন্যদিকে, হুথি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারী সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, সৌদির গভীরে তারা মূলত দুটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই হামলায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একঝাঁক ড্রোন ব্যবহার করা হয়, যার ফলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। রিয়াদের পাশাপাশি আল-খার্জ ও ওলায়া এলাকাতেও প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
কেন হঠাৎ সৌদিকে নিশানা করল হুথিরা?
হঠাৎ এই ভয়াবহ হামলার কারণ স্পষ্ট করে হুথি মুখপাত্র দাবি করেন, সম্প্রতি ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অত্যন্ত ‘অপরাধমূলক’ বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদির F-15 এবং Typhoon যুদ্ধবিমান থেকে সেখানকার সাধারণ মানুষের ওপর বোমাবর্ষণ করা হয়েছিল। তারই জবাবে এই প্রতিশোধমূলক আক্রমণ। এ ছাড়া হুথিদের আরও দাবি, ইয়েমেনের মারিব অঞ্চলে তারা একটি সৌদি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং তার ধ্বংসাবশেষের একটি ভিডিও তারা প্রকাশ্যে এনেছে। যদিও বিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে সৌদির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে বেশ কিছুদিন ধরেই মার্কিন ও ইজরায়েলি যুদ্ধজাহাজের ওপর কড়া নজরদারি ও হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। কিন্তু এবার সরাসরি সৌদির ভূখণ্ডে আঘাত হানায় সমগ্র পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতানিবিদরা।