‘বলো হরি, হরি বোল!’ দুর্গাপুরে চাল-কলা-কয়লা সাজিয়ে ‘তৃণমূলের শ্রাদ্ধ’ করল বিজেপি

রাজ্যের উপনির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক পারদ চড়ল দুর্গাপুরে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি হতেই মাঠে নামল বিজেপি। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে পুরোহিত ডেকে আয়োজন করা হলো এক অভিনব ও বিতর্কিত কর্মসূচির—শাসকদল তৃণমূলের প্রতীকী ‘শ্রাদ্ধ’!

শনিবার সিটি সেন্টারে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (ADDA) ভবনের সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা একত্রিত হয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।

শ্রাদ্ধের উপকরণে বালি, কয়লা ও ডিম!

সম্পূর্ণ হিন্দু রীতি মেনে পুরোহিতের উপস্থিতিতে শুরু হয় এই প্রতীকী শেষকৃত্যের আচার-অনুষ্ঠান। চারদিকে ওঠে ‘বলো হরি, হরি বোল’ ধ্বনি। তবে এই শেষকৃত্যে শ্রাদ্ধের স্বাভাবিক উপকরণের পাশাপাশি রাখা হয়েছিল কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ জিনিসপত্র—ধান, কলা এবং ডিমের সঙ্গেই সাজানো ছিল বালি ও কয়লা।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল জমানার মূল পরিচয়ই হলো বালি, কয়লা ও শিক্ষক নিয়োগে ‘ডিম’ বা দুর্নীতির সাম্রাজ্য। সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পালনের পর আগুন জ্বালিয়ে সাংকেতিক শেষকৃত্য সম্পন্ন করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

নেপথ্যে কমিশনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

বিজেপির এই আগ্রাসী কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক এক পদক্ষেপ। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুই গোষ্ঠীর আইনি লড়াইয়ের জেরে কমিশন এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ঘাস-ফুল’ বা জোড়াফুল প্রতীকটি ফ্রিজ (বাজেয়াপ্ত) করে দেয়।

এর ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে দুই শিবিরের কেউই পুরনো নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারছে না। কমিশন শেষ পর্যন্ত:

  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে: ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দিয়েছে।

  • অন্য বিরোধী শিবিরকে: ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে।

দলীয় প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার ঘটনাকে হাতিয়ার করেই বিজেপি দুর্গাপুরের বুকে এই প্রতীকী শেষকৃত্য ও শ্রাদ্ধ-শান্তির আয়োজন করে। শাসকদলের রাজনৈতিক অস্তাচল বোঝাতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি বিজেপি শিবিরের। অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে।