বিরাট সিদ্ধান্ত কলকাতা পুলিশের! এবার তিন মাস অন্তর সিভিকদের রিপোর্ট জমা দেবেন ওসি, নড়চড় হলেই ডিমোবিলাইজেশন

সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজ, শৃঙ্খলা এবং সামাজিক আচরণবিধি নিয়ে নজিরবিহীনভাবে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। ডিউটিতে গাফিলতি, শৃঙ্খলাভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি বা যেকোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে এবার থেকে সরাসরি চাকরি খোয়াতে হতে পারে সিভিক ভলান্টিয়ারদের। লালবাজার সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের হোম গার্ড অর্গানাইজেশনের ডেপুটি কমিশনার (DC, HGO) প্রয়োজন মনে করলে অনিয়মে জড়িত যেকোনো সিভিক ভলান্টিয়ারকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির (Dimobilisation) নির্দেশ দিতে পারবেন।

সম্প্রতি একাধিক ক্ষেত্রে সিভিক ভলান্টিয়ারদের আচরণ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছিল। সেই পরিস্থিতির রাশ টানতেই এই সমন্বিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে পুলিশ প্রশাসন।

নির্দেশিকায় কী কী নিয়ম কড়া করা হলো?

  • ৭ দিন অনুপস্থিত থাকলেই কারণ দর্শানোর নোটিস: কোনো সিভিক ভলান্টিয়ার যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা ছুটির মঞ্জুরি ছাড়া টানা ৭ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তাঁকে প্রথম শোকজ নোটিস পাঠানো হবে।

  • চূড়ান্ত নোটিস ও ছাঁটাই: প্রথম নোটিসের পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে কাজে না ফিরলে বা সন্তোষজনক জবাব না দিলে দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত নোটিস জারি করা হবে। তাতেও উত্তর যথাযথ না হলে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের (ডিমোবিলাইজেশন) প্রক্রিয়া শুরু হবে।

  • ফৌজদারি মামলা ও অনভিপ্রেত আচরণ: ছোটখাটো অপরাধ বাদে অন্য যেকোনো গুরুতর ফৌজদারি মামলায় নাম জড়ালে, পুলিশের সহায়ক হিসেবে অশালীন বা মর্যাদাহানিকর আচরণ করলে কিংবা চিকিৎসাগত কারণে কাজের অযোগ্য হয়ে পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতি ৩ মাস অন্তর ওসিদের দিতে হবে পারফরম্যান্স রিপোর্ট

প্রশাসনের অন্দরে স্বচ্ছতা আনতেই প্রতিটি থানার ওসি (Officer in Charge) এবং ইউনিট ইন-চার্জদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তাঁদের অধীনে থাকা সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের ধরণ, উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা মূল্যায়ন করে প্রতি ৩ মাস অন্তর রিপোর্ট পাঠাতে হবে DC, HGO-র দপ্তরে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তাঁদের কাজের মেয়াদ ও ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

পুলিশি ব্যবস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ারদের আচরণ মার্জিত করতেই লালবাজারের এই কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।