৪০% পুরুষই জানেন না তাঁরা এই বিপদে! অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড প্রেসার কাড়তে পারে প্রাণ, চিনে নিন সতর্কবার্তা

হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক। কারণ, শরীরে রক্তচাপ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গেলেও অনেক সময় বাইরে থেকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ বোঝা যায় না। তবে বিভিন্ন চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের প্রবণতা অনেকটাই বেশি। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ থেকে ৪৬ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষদের রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকার ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি পুরুষ নিজের অজান্তেই এই রোগে ভুগছেন।
রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্র, চোখ ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করে। চিকিৎসকদের মতে, পুরুষদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপের প্রধান ৫টি লক্ষণ ফুটে উঠলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
১. সকালে ঘুম থেকে উঠে তীব্র মাথা ব্যথা
অকারণ ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ভেবে মাথা ব্যথা এড়িয়ে যাওয়া বড় ভুল হতে পারে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথার পিছন দিকে একটানা তীব্র ব্যথা হওয়া হাই ব্লাড প্রেসারের প্রাথমিক লক্ষণ। রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে মাথার খুলির ভেতরের চাপ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মাথার পেছনের অংশে এই অনুভূতি হয়। এমনটা হলে অবিলম্বে রক্তচাপ মাপা জরুরি।
২. অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি ও হাঁপিয়ে ওঠা
সিঁড়ি দিয়ে ওঠার মতো সামান্য দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়ে যদি তীব্র হাঁপ ধরে বা কোনো কারণ ছাড়াই সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব হয়, তবে তা সতর্কবার্তার ইঙ্গিত। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্টকে অতিরিক্ত শক্তিতে রক্ত পাম্প করতে হয়। এর ফলে হৃদযন্ত্রের পেশিগুলো মোটা ও দুর্বল হতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৩. ঘন ঘন নাক থেকে রক্ত পড়া
পুরুষদের ক্ষেত্রে হঠাৎ বা বারবার নাক থেকে রক্ত পড়া কোনো গভীর শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। শরীরের ধমনীতে রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল রক্তনালীগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে রক্তনালী ফেটে গিয়ে নাক দিয়ে রক্ত বের হতে পারে।
৪. মাথা ঘোরা বা চোখে ঝাপসা দেখা
উচ্চ রক্তচাপ সরাসরি চোখের রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ক্ষতি করে। এর ফলে সাময়িকভাবে চোখ ঝাপসা দেখা, একটি জিনিসকে দুটি দেখা (ডাবল ভিশন) কিংবা হঠাৎ মাথা ঘুরে ওঠার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই ধরণের পরিবর্তন দেখা দিলে কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫. বুক ধড়ফড় ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
বুক, ঘাড় বা কানের আশপাশে যদি খুব দ্রুত ও জোর গতিতে হৃদস্পন্দন বা ‘ধুকপুকানি’ অনুভব করেন, তবে তা উচ্চ রক্তচাপের স্পষ্ট সংকেত। ব্লাড প্রেসার বাড়লে হৃদযন্ত্রের পেশির ওপর বাড়তি ধকল পড়ে, যা ‘অ্যারিথমিয়া’ বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সৃষ্টি করে।
পরামর্শ: শারীরিক এই সংকেতগুলোকে সামান্য অবহেলা না করে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করানো এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত প্রয়োজন। সঠিক সময়ে ধরা পড়লে ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।