প্রেমিক ও ১৬ বছরের ছেলেকে সাথে নিয়ে স্বামী খুন! রক্ত মুছে মেঝে প্লাস্টার করল দ্বিতীয় স্ত্রী, লখনউতে চাঞ্চল্য

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের মাশুল! প্রেমিক ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুন দ্বিতীয় স্ত্রীর, লখনউতে তুলকালাম
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কেন যোগাযোগ রাখছেন স্বামী? শুধু যোগাযোগই নয়, আর্থিক সাহায্যও করছেন নিয়মিত—এই অপরাধেই স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার নৃশংস ছক কষলেন দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রেমিক ও তার সঙ্গীকে ঘরে ডেকে ঘুমন্ত স্বামীকে কুপিয়ে খুন করানোর পর প্রমাণ লোপাটে নিজের ১৬ বছরের নাবালক সন্তানকেও যুক্ত করলেন ওই মহিলা। রক্ত পরিষ্কার করে ঘরের মেঝেতে প্লাস্টার পর্যন্ত করে দেওয়া হয়েছিল! তবে শেষ রক্ষা হলো না।
উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের দক্ষিণ এলাকায় খালের জল থেকে লোহার ট্রাঙ্কে বন্ধ অবস্থায় উদ্ধার হলো নিখোঁজ স্বামীর পচা-গলা দেহ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে অভিযুক্ত দ্বিতীয় স্ত্রী, তার প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে মহিলার নাবালক ছেলেকেও।
কেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড?
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম রামকিশোর বাল্মীকি। চার বছর প্রেমের সম্পর্কের পর বছর দুয়েক আগে সুফিয়া বানো নামের ওই মহিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রামকিশোর। তবে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই ৫২ বছর বয়সি মুন্না ওরফে মুলচাঁদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন সুফিয়া।
স্ত্রীর এই বেপরোয়া সম্পর্কের কথা জানতে পেরে প্রতিবাদ করেন রামকিশোর। স্বামী-স্ত্রীর তীব্র অশান্তির মাঝেই রামকিশোর আবার নিজের প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং তাঁকে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য দেওয়া শুরু করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী সুফিয়া এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। রামকিশোরকে পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিক মুন্না এবং তার সঙ্গী ৪২০ বছর বয়সি মহম্মদ ইকবাল ওরফে বসির আহমেদের সঙ্গে মিলে রামকিশোরকে হত্যার চূড়ান্ত ছক ছকেন তিনি।
মধ্যরাতে খুনের ছক ও প্লাস্টার দিয়ে রক্ত মোছার চেষ্টা
ডিসিপি (লখনউ দক্ষিণ) মহম্মদ মুশতাক জানিয়েছেন, পরিকল্পনামাফিক ঘটনার দিন রাতে সুফিয়া তাঁর ঘরের পেছনের দরজা আগে থেকেই খোলা রাখেন। গভীর রাতে রামকিশোর ঘুমে আচ্ছন্ন হতেই মুন্না ও ইকবাল ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুন করে।
খুন নিশ্চিত হওয়ার পর সুফিয়া বানো ও তাঁর সহযোগীরা রক্তের দাগ মুছতে পুরো ঘর ঝাড়ু দেয় এবং খুনের চিহ্ন চিরতরে মুছে ফেলতে মেঝের ওপর নতুন করে প্লাস্টার করে দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সাহায্য করেছিল সুফিয়ার ১৬ বছরের নাবালক ছেলেও।
খাটের তলা থেকে খালের জলে ট্রাঙ্ক: প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অন্তিম পরিণতি
খুনের পরদিন দিনের বেলা রামকিশোরের মৃতদেহ খাটের নিচে একটি কাঠের বাক্সে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর রাতের অন্ধকারে একটি ই-রিকশা ভাড়া করে সেই দেহের সাথে ভারী বস্তু বেঁধে লোহার ট্রাঙ্কে পুরে খালের জলে ফেলে দিয়ে আসা হয়, যাতে পরিচয় শনাক্ত না করা যায়।
রামকিশোর আচমকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবী। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনার তদন্তে নামে লখনউ পুলিশ। ঘটনার মাত্র দু’দিনের মাথায় খাল থেকে ট্রাঙ্কবন্দি দেহ উদ্ধার হতেই উন্মোচিত হয় এই হাড়হিম করা ঘটনার রহস্য। খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও দেহ বহনে ব্যবহৃত ই-রিকশা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে সুফিয়া বানো, মুন্না ও ইকবালকে।