জমি বা ভিটেমাটি কেনার প্ল্যান করছেন? জালিয়াতি রুখতে পোর্টাল থেকে ভূমি রেকর্ড চেক করার এ টু জেড গাইড

জমিজমা বা পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে সামান্য অনিয়ম বা ভুলের কারণে অনেক সময় বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধায় জমি কেনাবেচা, মালিকানা যাচাই কিংবা মিউটেশনের মতো কাজগুলোর জন্য আর সরকারি দপ্তরে বার বার ঘুরে সময় নষ্ট করতে হয় না। ঘরে বসেই স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে সরকারি পোর্টালে এই সমস্ত তথ্য নিমেষেই দেখে নেওয়া সম্ভব। জমি সংক্রান্ত জরুরি আইনি নিয়ম এবং অনলাইন পোর্টালে কাজের সহজ ধাপগুলো একনজরে জেনে নিন।
১. অনলাইনে জমির মিউটেশন বা নামজারি স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে?
জমি কেনার পর তা নিজের নামে নথিভুক্ত করা অর্থাৎ মিউটেশন (Mutation) করানো অত্যন্ত জরুরি। আপনার আবেদনের বর্তমান স্থিতি কী, তা অনলাইনেই চেক করা সম্ভব:
ধাপ ১: রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টালে (যেমন বাংলার ক্ষেত্রে ‘বাংলারভূমি’ বা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ল্যান্ড রেকর্ড পোর্টাল) প্রবেশ করুন।
ধাপ ২: ‘Mutation Status’ বা নামজারি স্থিতি দেখার ক্যাটাগরি বেছে নিন।
ধাপ ৩: আপনার আবেদনের নম্বর (Application Number), খতিয়ান নম্বর অথবা মৌজা ও জেলার নাম নির্বাচন করে সাবমিট করুন।
ধাপ ৪: সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে ভেসে উঠবে আপনার মিউটেশন মঞ্জুর হয়েছে নাকি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২. পৈতৃক সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার আইন
পৈতৃক সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দেশের সিভিল আইন অনুযায়ী বেশ কিছু স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।
উত্তরাধিকার সূত্র: পিতা বা পূর্বপুরুষের মৃত্যুর পর তাঁর স্বার্জিত বা পৈতৃক সম্পত্তিতে সন্তানদের সমান আইনি অধিকার তৈরি হয়।
ওয়ারিশান সনদ (Heirship Certificate): পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের নামে নামজারি করার জন্য স্থানীয় পুরসভা, পঞ্চায়েত বা আদালত থেকে সংগৃহীত ওয়ারিশান বা উত্তরাধিকার সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ইচ্ছাপত্র বা উইল: যদি কোনো নির্দিষ্ট উইলের উল্লেখ না থাকে, তবে ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় উত্তরাধিকার আইন (যেমন হিন্দু উত্তরাধিকার আইন বা মুসলিম পারিবারিক আইন) অনুযায়ী সম্পত্তি অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
৩. জমি বা বাড়ি রেজিস্ট্রেশন ফি-তে বিশেষ ছাড়
সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং আবাসন খাতকে চাঙ্গা রাখতে সরকার সময়ে সময়ে স্ট্যাম্প ডিউটি (Stamp Duty) এবং রেজিস্ট্রেশন ফি-তে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ দিয়ে থাকে।
মহিলাদের নামে বিশেষ সুবিধা: বহু রাজ্যে মহিলাদের নামে সম্পত্তি নথিভুক্ত বা রেজিস্ট্রেশন করলে স্ট্যাম্প ডিউটিতে বিশেষ ছাড় ( ছাড়ের হার ১%-২% পর্যন্ত হতে পারে) পাওয়া যায়।
নির্দিষ্ট সময়ের ছাড়: সরকার মাঝে মাঝেই স্ট্যাম্প ডিউটি কমানোর সার্কুলার জারি করে। তাই জমি বা ফ্ল্যাট কেনার রেজিস্ট্রেশন করার আগে চলতি রেজিস্ট্রেশন ফি ও ছাড়ের সরকারি নিয়মগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নিন।
৪. সরকারি পোর্টালে জমির আসল মালিকানা যাচাইয়ের উপায়
জমি কেনার আগে উক্ত জমিটি আসল মালিকের নামে রয়েছে কি না বা কোনো আইনি আইনি বিতর্ক রয়েছে কি না, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
রেকর্ড অফ রাইটস (RoR) দেখা: সরকারি ল্যান্ড রেকর্ড পোর্টালে গিয়ে দাগ নম্বর (Dag Number) ও খতিয়ান নম্বর দিয়ে সার্চ করলে জমির সঠিক আয়তন, শ্রেণি (বাস্তু, কৃষি ইত্যাদি) এবং বর্তমান মালিকের নাম স্পষ্ট জানা যায়।
জালিয়াতি থেকে সুরক্ষা: অনলাইনে যাচাইকৃত খতিয়ানের তথ্য থাকলে যেকোনো ভুয়ো বা জাল দলিল মারফত জমি বেচাকেনার জালিয়াতি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
জমিজমা সংক্রান্ত যেকোনো বড় আর্থিক লেনদেনের আগে সরকারি পোর্টালের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনে আইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। পোস্টটি দরকারী মনে হলে পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন!